“ইরানের নৌবাহিনী বা বিমানবাহিনী বলে কিছু নেই!” তেহরানকে নিয়ে কী এমন হুংকার ছাড়লেন ডোনাল্ড ট্রাম্প?

কৌশলগতভাবে মধ্যপ্রাচ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) নিয়ে ফের এক চাঞ্চল্যকর ও আক্রমণাত্মক দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার এক বিবৃতিতে ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, হরমুজ প্রণালীর ওপর বর্তমানে আমেরিকার “সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ” রয়েছে এবং ওয়াশিংটন এই কৌশলগত জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতেই ধরে রাখবে। একই সঙ্গে মার্কিন নৌবাহিনীর এই অবরোধকে একটি ‘ইস্পাতের প্রাচীর’ (Wall of Steel) বলে ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।
ইরানের সামরিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্পের তোপ
হরমুজ প্রণালী প্রসঙ্গ টেনেই ইরানের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরানের বর্তমান কোনো কার্যকরী নৌবাহিনী বা বিমানবাহিনী নেই এবং দেশটির অবশিষ্ট সেনারাও ঠিকমতো বেতন পাচ্ছেন না। তাঁর দাবি, ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-কে “পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে এবং তারা এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছে।”
ইরানের নেতৃত্বের স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ট্রাম্প বলেন, দেশটির অর্থনীতি সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে এবং তাদের হাতে কোনো অর্থ নেই। ইরানকে একটি “ধ্বংসপ্রাপ্ত রাষ্ট্র” হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, দেশটির কাছে এখন শুধুই রয়েছে “ভুয়ো খবর” এবং “৩০০ শতাংশ মূল্যস্ফীতি, যা দিন দিন আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে!” তাঁর সাফ কথা, “মধ্যপ্রাচ্যে সেই দাদাগিরি করা ইরান আর নেই।”
যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর খবর অস্বীকার করল ইরান
এদিকে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমানোর সমস্ত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা যখন একে একে বাধার মুখে পড়ছে, ঠিক তখনই ট্রাম্পের এই মন্তব্য সামনে এল। এর আগে পাকিস্তানের সরকারের সূত্রের বরাত দিয়ে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ‘আনাদোলু’ (Anadolu) দাবি করেছিল যে, গত জুন মাসে স্বাক্ষরিত একটি অন্তর্বর্তী চুক্তির আওতায় তেহরান ও ওয়াশিংটন ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি বাড়াতে সম্মত হয়েছে।
কিন্তু রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের এক শীর্ষস্থানীয় সূত্র সেই দাবি সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে। ওই সূত্র পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে যে, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো নিয়ে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে বিন্দুমাত্র কোনো আলোচনা হয়নি। ইরান এমন কোনো সময়সীমাকেই স্বীকৃতি দেয় না, যার মেয়াদ বাড়ানোর প্রশ্ন ওঠে। তাঁদের মতে, অন্তর্বর্তী চুক্তিটি আদতে কখনোই যথাযথভাবে কার্যকরই করা হয়নি।
চুক্তি লঙ্ঘনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করল তেহরান
তেহরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকেই এই চুক্তি ভাঙার জন্য কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে। ইরানের ওই শীর্ষ সূত্র আরও অভিযোগ করেছে যে, চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র সেই অন্তর্বর্তী চুক্তি লঙ্ঘন করে এবং কয়েকদিন পর তা থেকে সম্পূর্ণ সরে আসে।
বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে যখন ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন একচ্ছত্র আধিপত্য ও নৌ অবরোধের জয়গান গাইছেন, অন্যদিকে তখন তেহরান যুদ্ধবিরতির কোনো অস্তিত্বই নেই বলে দাবি করে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সংঘাতের পথেই হাঁটছে। দুই দেশের এই অনমনীয় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে বড় ধরনের উত্তেজনার মেঘ ঘনাচ্ছে।