পাকিস্তানি এজেন্টের রোমহর্ষক কাণ্ড! কাঠমান্ডুর ব্যবসা থেকে সোজা কলকাতার ফোর্ট উইলিয়াম রেকি—নেপথ্যে কে?

সম্প্রতি বেঙ্গল এসটিএফের (STF) হাতে গ্রেফতার হওয়া ধৃত পাক এজেন্ট রানা রউফ ওরফে ওয়াহাব আলমের জেরা থেকে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসছে। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত রানা এ পর্যন্ত মোট পাঁচবার ভারতে প্রবেশ করেছিল এবং প্রতিবারই কলকাতার তিলজলায় ইজাজ নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল। ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ এবং সবশেষ ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সে কলকাতায় আসে।

জালিয়াতির জাল ও ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরি
এসটিএফ সূত্রে জানা যাচ্ছে, ধৃত রানা ইজাজের বাবা যুবের আলমকে নিজের পিতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রথমে জাল ভোটার কার্ড তৈরি করে। এরপর সেই নথির ভিত্তিতেই প্যান কার্ড এবং [আধার কার্ড রেড্যাক্টেড]-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ ভারতীয় পরিচয়পত্রও বানিয়ে নেয় সে।

আইএসআই যোগ ও ভারতে অনুপ্রবেশের রুট
জেরায় ধৃত রানা স্বীকার করেছে যে, তার পাকিস্তান আর্মিতে যোগদানের ইচ্ছে ছিল। কিন্তু শারীরিক কিছু সমস্যার কারণে সেনাবাহিনীতে চাকরি না পেলেও সে পাকিস্তান আর্মি ও আইএসআই (ISI)-এর সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করতে সক্ষম হয় এবং পরবর্তীতে আইএসআই এজেন্টে পরিণত হয়।

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশ থেকে ক্যারাটে প্রশিক্ষণ নেওয়া রানার কাঠমান্ডুতে একটি ব্যবসাও রয়েছে। কাঠমান্ডুর একটি মসজিদে ইজাজের সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং সেই সুবাদেই সে কলকাতায় আসে। প্রথমবার ভারতে আসার সময় তার কোনো ভারতীয় পরিচয়পত্র ছিল না। বিহারের রক্সৌল আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে চোরাপথে সে ভারতে প্রবেশ করত। যতবার সে ভারতে এসেছে, প্রতিবারই এই রুটটি ব্যবহার করেছে এবং ইজাজ তাকে কাঠমান্ডু থেকে ভারতে নিয়ে আসত।

কৌশলগত এলাকা রেকি এবং ষড়যন্ত্র
সম্প্রতি এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার সময় বিএলও (BLO) রানাকে তলব করলেও সে হাজিরা না দেওয়ায় ভোটার তালিকা থেকে তার নাম বাদ যায়। জানা গেছে, ইজাজ রানার পাকিস্তানি পরিচয় জেনেই তাকে নিজের বাড়িতে থাকতে দিয়েছিল। ধৃত জঙ্গি কলকাতার ফোর্ট উইলিয়াম ছাড়াও ব্যারাকপুর ক্যান্টনমেন্টের মতো সংবেদনশীল এলাকাগুলো ঘুরে ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করে তা আইএসআই এজেন্টদের কাছে পাঠিয়েছিল।

জাল পরিচয়পত্র বানানোর পর একাধিক সিম কার্ড তুলে সেগুলির মাধ্যমেই আইএসআই-এর সঙ্গে যোগাযোগ রাখত ধৃত। এবার তার পরিকল্পনা ছিল বনগা সীমান্ত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে সেখান থেকে পাকিস্তানে পালিয়ে যাওয়া, তবে তার আগেই এসটিএফের জালে ধরা পড়ে যায় সে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *