ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস ও দুর্নীতির প্রতিবাদে উত্তাল কলকাতা! পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে রাজপথে বসে পড়লেন কংগ্রেস সভাপতি

পৌর পরিষেবা প্রদানে চূড়ান্ত ব্যর্থতা, বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতি এবং বিতর্কিত ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস (Delimitation)-এর প্রতিবাদে এবার সরাসরি বড়সড় রাজনৈতিক আন্দোলনে নামল প্রদেশ কংগ্রেস। বুধবার ওয়েলিংটন স্কোয়ার থেকে মিছিল করে কলকাতা কর্পোরেশন অভিযানের ডাক দেন কংগ্রেস কর্মীরা। পুলিশের কঠোর বাধা উপেক্ষা করে রাজপথে বসে পড়ে তীব্র বিক্ষোভ দেখান খোদ প্রদেশ সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। অন্যদিকে, একই ইস্যুতে এদিন শাসক দলের অন্দরের ক্ষোভ প্রকাশ করে কলকাতা কর্পোরেশনের প্রশাসকের সঙ্গে দেখা করে তৃণমূল কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধি দলও সর্বদলীয় বৈঠক ও গণশুনানির জোরালো দাবি তুলেছে।

১. কংগ্রেসের কর্পোরেশন অভিযান ও পুলিশের বাধা

এদিন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের নেতৃত্বে হাজার হাজার কর্মী ওয়েলিংটন স্কোয়ার থেকে মিছিল করে এসএন ব্যানার্জি রোড ধরে কলকাতা কর্পোরেশনের দিকে এগোতে থাকেন। তবে জানবাজারের মুখে বিশাল পুলিশ বাহিনী ব্যারিকেড দিয়ে মিছিল আটকে দেয়। এরপরই কংগ্রেস কর্মীরা রাস্তায় বসে পড়েন এবং তীব্র স্লোগান দিতে শুরু করেন। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের পর রাজ্য সভাপতি শুভঙ্কর সরকার সহ অন্যান্য নেতারিক রাস্তায় অবস্থান বিক্ষোভে বসে পড়েন এবং দলীয় একটি প্রতিনিধি দল ডেপুটেশন জমা দিতে কর্পোরেশনের ভেতরে যান।

২. শুভঙ্কর সরকারের মারাত্মক অভিযোগ

বিক্ষোভের মঞ্চ থেকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার রাজ্য সরকার ও কর্পোরেশনের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, রাজ্যে সার্বিকভাবে পৌর প্রশাসন পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছে এবং সাধারণ মানুষ ন্যূনতম নাগরিক পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাঁর আরও বিস্ফোরক দাবি—“জনগণনা ছাড়াই অবৈধভাবে ডিলিমিটেশন করা হচ্ছে এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অপরিকল্পিতভাবে ওয়ার্ড ভাঙা হচ্ছে।”

৩. তৃণমূলের অন্দরেও অসন্তোষ ও কুণাল ঘোষের অবস্থান

এদিকে বিরোধী দলগুলির পাশাপাশি শাসক শিবিরের অন্দরেও এই ডিলিমিটেশন নিয়ে অসন্তোষ দানা বাঁধছে। এদিন এক অদ্ভুত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় ও রত্না শুরকে সঙ্গে নিয়ে কর্পোরেশনের প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডের সঙ্গে দেখা করেন।

বৈঠকের পর কুণাল ঘোষ স্পষ্ট জানান যে, ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন করার আগে অবশ্যই সর্বদলীয় বৈঠক এবং গণশুনানি করা বাধ্যতামূলক। খসড়াটি কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় তৈরি হলো, সে বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিধায়কদের সম্পূর্ণ অন্ধকারে রাখা হয়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। যদিও কর্পোরেশনের প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে তাঁদের সাফ জানিয়ে দেন যে, এই ধরনের সর্বদলীয় বৈঠক ডাকার কোনো এক্তিয়ার তাঁর দপ্তরের নেই। সবমিলিয়ে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস এবং নাগরিক পরিষেবার ইস্যুতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে কলকাতার রাজপথ।

Samrat Das
  • Samrat Das

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *