পরিবারের আপত্তির পরেই সিবিআইয়ের কড়া পদক্ষেপ! ঘটনার রাতে নির্যাতিতার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের এবার ম্যারাথন জেরা

আরজি কর-কাণ্ডের তদন্তে এবার নতুন করে গতি বাড়াচ্ছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই (CBI)। ২০২৪ সালের ৯ অগস্টের ঠিক আগের রাতে হাসপাতালে নির্যাতিতা তরুণী চিকিৎসকের সঙ্গে কারা ছিলেন, তাঁদের মধ্যে কারা কী দেখেছিলেন এবং ঘটনার আগে-পরে তাঁদের সঠিক গতিবিধি কী ছিল—সেসব তথ্য খতিয়ে দেখতে এবার নড়েচড়ে বসেছেন তদন্তকারীরা। সিবিআই সূত্রে খবর, নতুন করে হাসপাতালের একাধিক নার্স, চিকিৎসক এবং অন্যান্য হাসপাতালকর্মীকে তলব করা হচ্ছে।
সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, ৯ অগস্টের মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি সুনির্দিষ্ট আলাদা তালিকা তৈরি করা হয়েছে। ওই তালিকায় হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসক, নার্স এবং অন্যান্য স্টাফদের নাম রয়েছে। বিশেষ করে ঘটনার দিন রাতে মৃত চিকিৎসকের আশপাশে যাঁরা ছিলেন বা যাঁদের সঙ্গে তাঁর কোনোভাবে যোগাযোগ হয়েছিল, তাঁদের চিহ্নিত করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আগামী সপ্তাহেই ওই তালিকার বেশ কয়েকজনকে ডেকে পাঠানোর জোরালো প্রস্তুতি চলছে।
পরিবারের প্রশ্নের পরেই তদন্তে নতুন জোর সম্প্রতি শিয়ালদা আদালতে তদন্তের অগ্রগতি সংক্রান্ত একটি স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দিয়েছিল সিবিআই। সেই শুনানির সময় নিহত চিকিৎসকের পরিবারের তরফে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল যে, ঘটনার দিন রাতে তরুণী চিকিৎসকের সঙ্গে থাকা বন্ধু এবং অন্যান্য ব্যক্তিদের কেন আরও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে না। পরিবারের এই আপত্তির পরেই তদন্তের ওই দিকটিতে নতুন করে জোর দিয়েছে সিবিআই। তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য, ঘটনার আগের সেই রাতের একটি নিখুঁত ‘টাইমলাইন’ বা টাইম-চার্ট তৈরি করা।
আর্থিক দুর্নীতি মামলাতেও নজর ধর্ষণ ও খুনের মামলার সমান্তরালে আরজি কর হাসপাতালের আর্থিক দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলাতেও তথ্য সংগ্রহ অব্যাহত রেখেছে সিবিআই। হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের আমলের বিভিন্ন সামগ্রী কেনাকাটা এবং সেই সংক্রান্ত বিল মেটানোর পদ্ধতি নিয়ে সম্প্রতি এক ব্যক্তির সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। কেনাকাটার নথি, ভেন্ডরদের বিল এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বক্তব্য মিলিয়ে দেখে পুরো দুর্নীতির জাল কতদূর বিস্তৃত ছিল, তা বোঝার চেষ্টা চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা।