“আগামী নির্বাচন পেরিয়ে যাবে, তবুও কি মামলার নিষ্পত্তি হবে না?” ক্ষুব্ধ প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ

অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর বেশ কয়েক মাস কেটে গেলেও লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম এখনও অমীমাংসিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। আর এই দীর্ঘসূত্রিতা নিয়েই এবার সুপ্রিম কোর্টে চরম প্রশ্নের মুখে পড়তে হলো জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে। এই মুহূর্তে ঠিক কতগুলি ট্রাইব্যুনাল কাজ করছে, তারা প্রতিদিন কত ঘণ্টা কাজ করছে এবং এ পর্যন্ত কতগুলি মামলার নিষ্পত্তি করা হয়েছে—এই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অবিলম্বে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।

মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর সমন্বয়ে গঠিত সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়।

মামলার প্রেক্ষাপট ও অধীর চৌধুরীর আবেদন
মুর্শিদাবাদ ও মালদহ জেলায় এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার জেরে বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছিল। এর পর দীর্ঘ সময় ধরে তাঁদের আবেদনগুলি ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন পড়ে থাকায় শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা তথা প্রাক্তন সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরী।

মঙ্গলবারের শুনানিতে অধীরবাবুর আইনজীবী রউফ রহিম ও বিশিষ্ট আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য আদালতে অভিযোগ করেন যে, ট্রাইব্যুনালের পরিকাঠামো একেবারেই পর্যাপ্ত নয় এবং শতাংশের বিচারে যে সংখ্যক আবেদন নিষ্পত্তি হয়েছে তা অত্যন্ত নগণ্য।

সুপ্রিম কোর্টের কড়া পর্যবেক্ষণ ও প্রশ্নবাণ
শুনানি চলাকালীন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত অত্যন্ত কঠোর পর্যবেক্ষণ প্রকাশ করে বলেন যে, বর্তমান গতিতে যেভাবে আবেদনগুলির নিষ্পত্তি হচ্ছে, তাতে পরবর্তী নির্বাচন চলে আসবে তবুও সমস্ত মামলার নিষ্পত্তি শেষ হবে না।

অন্যদিকে, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী স্পষ্ট ভাষায় জানান:

“আমাদের নির্দেশেই ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়েছিল। তাই তাদের পারফরম্যান্স আমাদের খতিয়ে দেখার প্রয়োজন আছে। যদি দেখা যায় আবেদনের নিষ্পত্তির সংখ্যার নিরিখে তাদের কাজ সন্তোষজনক নয়, তবে পরিকাঠামোয় আমূল পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে। প্রয়োজনে অনলাইন শুনানি করা যায় কি না, তাও ভেবে দেখা দরকার।”

সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের কাছে সুনির্দিষ্ট কিছু তথ্য তলব করা হয়েছে:

এই মুহূর্তে মোট কতগুলি ট্রাইব্যুনাল সক্রিয়ভাবে কাজ করছে?

ট্রাইব্যুনালগুলি প্রতিদিন ঠিক কত ঘণ্টা কাজ করছে?

এখনও পর্যন্ত মোট কতগুলি মামলার সফল নিষ্পত্তি করা হয়েছে?

কমিশনের প্রতিক্রিয়া ও পরবর্তী শুনানি
কমিশনের আইনজীবী ডি. এস. নাইডু আদালতে জানান, “যদি পরিকাঠামোগত কোনো সমস্যার কারণে মামলার নিষ্পত্তি হতে দেরি হয়ে থাকে, তবে আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব।” তিনি আরও জানান যে, ট্রাইব্যুনালের কাজকর্মের গতি বাড়াতে আজ মঙ্গলবারই কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কমিশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে।

সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আগামী ২৫ আগস্ট এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে সুপ্রিম কোর্ট। উল্লেখ্য, এসআইআর প্রক্রিয়ার পর যাঁরা বিবেচনাধীন তালিকায় ছিলেন, তাঁদের নাম দ্রুত নিষ্পত্তির জন্যই শীর্ষ আদালতের নির্দেশে এই অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালগুলি গঠন করা হয়েছিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *