“ইতিহাস ড. মনমোহন সিংকে সশ্রদ্ধভাবে স্মরণ করবে!” সুপ্রিম রায়ের পর মোদী সরকারকে তীব্র আক্রমণ সোনিয়া গান্ধীর

২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়ার আগে ড. মনমোহন সিং (Dr. Manmohan Singh) যে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, প্রায় ১২ বছর পর ভারতের সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে তা অক্ষরে অক্ষরে সত্যি প্রমাণিত হলো। কয়লা ব্লক বণ্টন মামলায় সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক ক্লিন চিট বহাল রাখার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ পত্রিকায় একটি দীর্ঘ নিবন্ধ লিখেছেন কংগ্রেস সংসদীয় দলের চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধী (Sonia Gandhi)। তিনি জোরালোভাবে বলেছেন যে, ইতিহাস ড. সিংকে অত্যন্ত বিনয়ী, ভদ্র কিন্তু ভারতের ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী ও সৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবেই স্মরণ করবে।
সুপ্রিম রায়ের ঐতিহাসিক গুরুত্ব
সোনিয়া গান্ধী তাঁর নিবন্ধে উল্লেখ করেন যে, ২০২৬ সালের ২৯শে জুলাই ভারতীয় রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু উপেক্ষিত দিন। এই দিনেই সুপ্রিম কোর্ট সিবিআই-এর ক্লোজার রিপোর্টের ভিত্তিতে কথিত কয়লা কেলেঙ্কারি মামলায় মনমোহন সিংকে দেওয়া ক্লিন চিট বহাল রাখে। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, কোনো সুনির্দিষ্ট ও যুক্তিগ্রাহ্য কারণ ছাড়াই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সমন জারি করেছিল অধস্তন আদালত। সোনিয়া গান্ধীর মতে, এর মধ্য দিয়ে দেশের জনপরিসরের অন্যতম একটি দুঃখজনক ও কালিমালিপ্ত অধ্যায়ের অবসান ঘটল।
সোনিয়া গান্ধীর নিবন্ধে উঠে এল যেসব চাঞ্চল্যকর প্রসঙ্গ:
সুপরিকল্পিত মিথ্যা প্রচারের অভিযোগ: সোনিয়া গান্ধী অভিযোগ করেন যে, ড. সিংয়ের বিরুদ্ধে আমলাতন্ত্র, গণমাধ্যম, বিচার বিভাগ, সুশীল সমাজ এবং বিশেষ করে বিজেপি ও আরএসএস-এর একটি দল সুপরিকল্পিত ও সমন্বিত কুৎসা ও মিথ্যা প্রচার চালিয়েছিল।
সংসদীয় ইতিহাসের সর্বনিম্ন স্তর: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কঠোর সমালোচনা করে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ২০১৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি রাজ্যসভায় প্রধানমন্ত্রী মোদীর করা ‘রেইনকোট পরে স্নান করা’ সংক্রান্ত কটূক্তিটি ছিল ভারতীয় সংসদীয় ইতিহাসের অন্যতম নিকৃষ্টতম ও নিম্নমানের দৃষ্টান্ত। বর্তমান সরকার সিবিআই ও ইডির মতো কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে বলেও তোপ দাগেন তিনি।
মনমোহন জমানার অভাবনীয় সাফল্য: ইউপিএ সরকারের আমলের অর্থনৈতিক অগ্রগতির কথা তুলে ধরে সোনিয়া জানান যে, ২০০৮ সালের বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যেও ভারত দারুণ স্থিতিস্থাপকতা দেখিয়েছে। তাঁর আমলেই শিক্ষা অধিকার আইন, অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণীর জন্য সংরক্ষণ এবং জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইন, ২০১৩ পাস হয়। এছাড়া, নিজের ১০ বছরের কার্যকালে ড. সিং পূর্বনির্ধারিত প্রশ্ন ছাড়াই ১০০টিরও বেশি অবাধ সংবাদ সম্মেলন করে সংবাদমাধ্যম ও সংসদের কাছে সর্বদা জবাবদিহি করতেন।
সোনিয়া গান্ধী তাঁর লেখায় স্মরণ করেন যে, প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং দুই বছর আগে ২০২৪ সালের ২৭শে ডিসেম্বর পরলোকগমন করেন। আজকের এই আইনি জয় তিনি স্বয়ং দেখে যেতে না পারলেও, তাঁর সততা ও স্বচ্ছতা আজ আদালতের রায়ে চিরতরে প্রতিষ্ঠিত হলো।