ভয়াবহ ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল কলাম্বিয়া! ৭.৪ মাত্রার এই প্রলয়ে মৃত বেড়ে ১৩২, ধসে পড়েছে শত শত ভবন

প্রকৃতির এক ভয়ঙ্কর তাণ্ডব দেখল লাতিন আমেরিকার দেশ কলাম্বিয়া। স্থানীয় সময় সোমবার ভোরে আঘাত হানা ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী এক ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে পুরো দেশ। এই প্রলয়ঙ্করী ভূকম্পনে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৩২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং আহত হয়েছেন প্রায় ৫৭০ জন মানুষ। শতাব্দীর অন্যতম শক্তিশালী এই ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শহর ও ক্ষয়ক্ষতির চিত্র
পেরেইরা (Pereira): এই শহরটি ভূমিকম্পের আঘাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কেবল এখানেই অন্তত ৬০ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। শহরের বিভিন্ন জায়গায় বহুতল ভবন ধসে পড়ে বিশাল ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
ব্যাপক পরিকাঠামোগত ক্ষতি: দেশজুড়ে অন্তত ১,৫০০-এর বেশি আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বহু ভবন সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। Cali-র একটি হাসপাতালের আংশিক ধসে পড়ার পর সেখানে আটকে পড়া রোগীদের উদ্ধারে কাজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা।
বিমান চলাচল ও রেড অ্যালার্ট: পরিস্থিতি সামাল দিতে পাঁচটি রাজধানী শহরকে ‘রেড অ্যালার্ট’-এর আওতায় রাখা হয়েছে। পাশাপাশি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও জরুরি ফ্লাইটের জন্য অন্তত সাতটি বিমান বন্দরে অপারেশন স্থগিত করা হয়েছে।
উদ্ধারকাজ এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা
ভূমিকম্পের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে রাজধানী বোগোটা (Bogota) সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়। ভয়ে আতঙ্কে ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন সাধারণ মানুষ।
ভূমিকম্পের পরপরই উদ্ধারকাজে নেমে পড়েছে সেনাবাহিনী ও দমকল বাহিনী। তবে আফটারশকের (Aftershock) আশঙ্কার মধ্যেই দুর্গম এলাকাগুলোতে ত্রাণ ও উদ্ধার কাজ চালানো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহল থেকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী, উদ্ধারকারী দল এবং প্রয়োজনীয় ত্রাণ সামগ্রী দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোতে পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু করেছে কলাম্বিয়া সরকার।