‘পুলিশ কি অন্য কোনও উদ্দেশ্যে অনুমতি দেয়নি?’ রাজাবাজার মিছিল মামলায় রাজ্য প্রশাসনকে তীব্র ভর্ৎসনা হাইকোর্টের

ধর্মীয় স্থান থেকে মাইক খোলার সরকারি সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় সরব হয়েছে বিভিন্ন মহল। এই নির্দেশিকাকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হয়েছে জোড়া মামলা। অন্যদিকে, এই প্রতিবাদের অংশ হিসেবে আজ, ১১ অগাস্ট রাজাবাজার থেকে মৌলালি পর্যন্ত মিছিল করার অনুমতি দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্যর বেঞ্চ পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বেশ কিছু কড়া শর্তে এই মিছিলের অনুমতি দিয়েছেন।
✊ মিছিলের অনুমতি ও আদালতের কড়া শর্ত
ধর্মস্থান থেকে মাইক খোলার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে জমিয়ত-ই-উলেমার একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে ১১ অগাস্ট রাজাবাজার থেকে মৌলালি পর্যন্ত মিছিলের অনুমতি চাওয়া হলেও পুলিশ তা আটকে দেয় বলে অভিযোগ ওঠে। পুলিশের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন মামলাকারীরা। সোমবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্যর একক বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়।
উভয়পক্ষের সওয়াল শোনার পর আদালত কিছু নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে মিছিলের অনুমতি দিয়েছে:
সময়সীমা: সকাল সাড়ে ১১টা থেকে শুরু করে মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে মিছিল শেষ করতে হবে।
জনসংখ্যা: মিছিলে সর্বাধিক ৭৫০ জন উপস্থিত থাকতে পারবেন।
মাইক নিষিদ্ধ: এই মিছিলে কোনও ধরনের মাইক ব্যবহার করা যাবে না।
⚖️ পুলিশের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা হাইকোর্টের
মামলার শুনানিতে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অত্যন্ত কড়া মনোভাব পোষণ করেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্য। গত ৩ আগস্ট অনুমতির আবেদন করা হলেও গত ৭ আগস্ট (শুক্রবার) রাত সাড়ে আটটায় পুলিশ কেন অনুমতি না দেওয়ার কথা জানাল, সেই বিষয়ে প্রশ্ন তোলে আদালত। বিচারপতির তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ, পুলিশ সম্ভবত অন্য কোনও উদ্দেশ্যে মিছিলের অনুমতি দেয়নি এবং প্রশাসনের এত দেরিতে সিদ্ধান্ত জানানো উচিত হয়নি।
রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিত মিত্র নাথ সওয়ালে জানান, সপ্তাহের মাঝে কাজের দিনে এই মিছিলের অনুমতি দেওয়া প্রশাসনের পক্ষে কঠিন এবং মিছিলে লোকসংখ্যার ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকা দরকার। অন্যদিকে, মামলাকারীদের আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, প্রশাসন চাইলে আগেই শর্ত বা বিকল্প রুটের কথা জানাতে পারত।
🏛️ হাইকোর্টে দায়ের জোড়া মামলা ও জনস্বার্থ মামলা
শুধু একক বেঞ্চেই নয়, ধর্মীয় স্থানে মাইক খোলার সরকারি এই নির্দেশিকার বৈধতা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে আরও একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছেন আইনজীবী দানিশ ফারুকী। পাশাপাশি, একই ইস্যুতে কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছেন বিশিষ্ট আইনজীবী তথা সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও। সব মিলিয়ে, মাইক খোরা নিয়ে রাজ্যজুড়ে চলা বিতর্কের জল এখন গড়িয়েছে আদালতের অন্দরে।