‘গেরুয়া’ গানে ব্যাকগ্রাউন্ডে থাকা ভাঙা প্লেনটি কি আসল ছিল? খোদ শাহরুখ খানের মুখে ফাঁস হলো অজানা রহস্য!

রোহিত শেঠির পরিচালিত ‘দিলওয়ালে’ (Dilwale) ছবির ‘গেরুয়া’ (Gerua) গানটি মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই দর্শক ও অনুরাগীদের মনে চিরকালের মতো জায়গা করে নিয়েছে। এই গানে শাহরুখ খান এবং কাজলের রোম্যান্টিক রসায়নের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছিল তাঁদের ব্যাকগ্রাউন্ডে থাকা একটি রহস্যময় ভাঙা বিমান বা প্লেন। অনেকেই ভেবেছিলেন, গানটির জন্য বোধহয় কৃত্রিমভাবে এই সেট তৈরি করা হয়েছিল। তবে সম্প্রতি এই নিয়ে মুখ খুলে এক অবাক করা তথ্য ফাঁস করেছেন খোদ ‘বাদশা’ শাহরুখ খান।
প্লেনটি কি সত্যিই ভাঙা ছিল?
শাহরুখের ভাষ্যমতে, গানটিতে যে প্লেনটি দেখা গিয়েছে, তা কোনো সিনেমার সেট বা তৈরি করা কোনো প্রপস ছিল না। বরং সেটি ছিল একটি আসল, পরিত্যক্ত বিমান। ‘দিলওয়ালে’ টিম শুটিংয়ের বহু বছর আগে থেকেই আইসল্যান্ডের বিশাল কালো বালির প্রান্তরে ওই অবস্থায় পড়ে ছিল। দৃশ্যটিকে ‘পরাবাস্তব’ আখ্যা দিয়ে শাহরুখ জানিয়েছিলেন, তাঁরা একটি সম্পূর্ণ নির্জন প্রান্তরের মাঝে আধ-ভাঙা এই প্লেনটি খুঁজে পান। পরিচালক রোহিত শেঠি বা তাঁদের প্রোডাকশন টিমের কেউ এই প্লেনটি সেখানে রাখেননি।
প্লেনের আসল ইতিহাস ও আইসল্যান্ডের রহস্য
জানা যায়, এই ধ্বংসাবশেষটি আইসল্যান্ডের দক্ষিণ উপকূলের সোলহেইমাসাদুর (Sólheimasandur) নামের এক বিশাল কালো বালির প্রান্তরে রয়েছে।
-
১৯৭৩ সালের দুর্ঘটনা: ১৯৭৩ সালে একটি মার্কিন নেভির বিমান ওড়ার সময় প্রযুক্তিগত সমস্যায় পড়ে এবং এখানে জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়। ভাগ্যবশত বিমানের সবাই প্রাণে বেঁচে গেলেও, সেটিকে আর মেরামত করা সম্ভব হয়নি এবং সেটি ওখানেই পরিত্যক্ত অবস্থায় থেকে যায়।
-
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি আইসল্যান্ডের একটি অন্যতম জনপ্রিয় ও রহস্যময় পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়। কালো বালির ওপর মরচে ধরা এই বিমানের উপস্থিতি গানে এক অদ্ভুত ও রূপকথার আমেজ এনে দিয়েছিল।
হাড় কাঁপানো ঠান্ডা ও আসল রামধনু
শুধু ভাঙা প্লেনই নয়, আইসল্যান্ডের এই কঠিন শুটিংয়ে শাহরুখ ও কাজলকে চরম প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। পর্দার রোম্যান্টিক দৃশ্যের আড়ালে কলাকুশলীদের হাড় কাঁপানো ঠান্ডার মধ্যে কাজ করতে হয়েছিল। কোরিওগ্রাফার ফারাহ খানও সেই কঠিন অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছিলেন।
তবে এই ঠান্ডার মাঝেই প্রকৃতি তাঁদের কিছু অবিশ্বাস্য উপহার দিয়েছিল। জলপ্রপাতের দৃশ্যের শুটিংয়ের সময় ব্যাকগ্রাউন্ডে তৈরি হওয়া একাধিক রামধনু সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ছিল, যা কোনো ভিএফএক্স (VFX) বা এডিটিংয়ের মাধ্যমে তৈরি করা হয়নি। খোদ কাজল ও শাহরুখ অবাক হয়ে দেখেছিলেন যে প্রকৃতির আশীর্বাদে একই ফ্রেমে তিনটি পর্যন্ত রামধনুর দেখা মিলেছিল।
পরিত্যক্ত বিমান, বন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, আসল রামধনু এবং শাহরুখ-কাজলের জাদুকরি কেমিস্ট্রি—সব মিলিয়ে ‘গেরুয়া’ গানটি কেবল একটি রোম্যান্টিক গান হয়ে থাকেনি, বরং ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে অন্যতম দৃশ্যম্য মিউজিক ভিডিও হিসেবে চিরকাল অমর হয়ে রয়েছে।