‘জেন-জি’দের দেশবিরোধী বলা বন্ধ করুন! আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের প্রশংসায় পঞ্চমুখ CJP প্রতিষ্ঠাতা!

‘কোকরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি (CJP)-এর প্রতিষ্ঠাতা অভিজিত দীপকে শুক্রবার রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ বা আরএসএস (RSS) প্রধান মোহন ভাগবতের সাম্প্রতিক ‘জেন জেড’ (Gen Z) সংক্রান্ত প্রগতিশীল মন্তব্যের ভূয়সী প্রশংসা করে পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। একই সঙ্গে তিনি মোহন ভাগবতের কাছে আবেদন জানিয়ে অনুরোধ করেছেন, তিনি যেন সরাসরি বিজেপি নেতৃত্ব ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ওপর প্রভাব খাটিয়ে নিশ্চিত করেন যে, কেন্দ্রের বিরোধিতাকারী আন্দোলনরত ছাত্রসমাজ ও তরুণ প্রজন্মকে যেন আর কখনোই কোনোমতেই ‘দেশবিরোধী’ বলে দাগিয়ে না দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, এর আগের দিনই মুম্বাইয়ের নিতা মুকেশ আম্বানি কালচারাল সেন্টার (NMACC)-এ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ‘জেন জেড’ প্রজন্মের তরুণদের মুখোমুখি বসে মোহন ভাগবত বলেছিলেন যে, উদীয়মান তরুণ প্রজন্মের নিজস্ব যৌক্তিক ইস্যুতে প্রতিবাদ করার পূর্ণ গণতান্ত্রিক অধিকার রয়েছে এবং তাদের অযথা দেশবিরোধী তকমা দেওয়া বরদাস্ত করা যায় না।
জেন-জির প্রতিবাদের অধিকারকে সমর্থন
সংবাদ সংস্থা এএনআই (ANI)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিত দীপকে জানান যে, মোহন ভাগবতের ওই মন্তব্যটিই এই প্রজন্মের আলোচনার সবচেয়ে ইতিবাচক দিক ছিল। তিনি উল্লেখ করেন যে, মোহনজি স্পষ্টভাবে বলেছেন জেন জেড প্রজন্মের তরুণদের কখনোই যেন দেশবিরোধী তকমা না দেওয়া হয়। তাদের প্রতিবাদ ও আন্দোলন করার পূর্ণ গণতান্ত্রিক অধিকার আছে এবং তাদের দাবিগুলো বহুলাংশেই যৌক্তিক। আমি তাঁর এই যুক্তির সঙ্গে পুরোপুরি একমত।
বিজেপি নেতৃত্বের কাছে বিশেষ বার্তা পাঠানোর আর্জি
মোহন ভাগবতকে ভারতীয় জনতা পার্টির মূল পথপ্রদর্শক হিসেবে অভিহিত করে দীপকে আর্জি জানান, তিনি যেন এই বার্তাটি দেশের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্বের অন্দরমহলে পৌঁছে দেন। তিনি যুক্তি দেন যে, মোহন ভাগবত যেহেতু বিজেপি এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্য অভিভাবকের ভূমিকা পালন করেন, তাই তিনি যেন নরেন্দ্র মোদী ও শীর্ষ নেতাদের কাছে স্পষ্ট বার্তা পাঠান যে তাঁরা যেন অবিলম্বে প্রতিবাদী ছাত্রসমাজ ও যুবসমাজকে দেশদ্রোহী বলে আক্রমণ করা থেকে বিরত থাকেন। দীপকে ক্ষোভের সঙ্গে অভিযোগ করেন যে, দেশজুড়ে চলা বিগত ছাত্র বিক্ষোভের সময় একাধিক প্রভাবশালী বিজেপি নেতা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নিশানা করে অপমানজনক শব্দ চয়ন করেছিলেন।
তিনি অভিযোগ তোলেন যে, শাসকদলের দায়িত্বশীল সদস্যরাই তরুণ প্রজন্মকে দেশদ্রোহী তকমা দিয়েছেন। উদাহরণ হিসেবে তিনি জানান যে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান তাঁদের ‘সন্ত্রাসবাদীদের বি-টিম’ এবং নীতিন নবীন তাঁদের সরাসরি ‘ভাইরাস’ বলে আক্রমণ করেছিলেন। তবে তাঁর আশা, এই প্রভাবশালী নেতারা এবার আরএসএস প্রধানের এই পরামর্শে যথাযথ আমল দেবেন। রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিজেপির পক্ষে সরাসরি আরএসএস প্রধানের অবস্থানের বিরুদ্ধে যাওয়া অসম্ভব প্রায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।