চা ঠান্ডা হয়ে গেছে বলে কি আবার গরম করে খাচ্ছেন? অজান্তেই ডেকে আনছেন মারণ রোগ!

কাজের ব্যস্ততায় অনেকেই কাপে চা ঢেলে তা ঠান্ডা করে ফেলেন এবং পরে সেই ঠান্ডা চা-ই আবার গ্যাসে বসিয়ে বা মাইক্রোওয়েভে গরম করে পান করেন। এতে সময়ের সাশ্রয় ও চায়ের অপচয় রোধ হয় বলে মনে করা হলেও, পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকদের মতে এই অভ্যাসটি শরীরের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। ঠান্ডা চা বারবার গরম করে খেলে তা শুধু চায়ের স্বাদ ও পুষ্টিগুণই নষ্ট করে না, বরং ডেকে আনে মারাত্মক কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকি।
বারবার চা গরম করলে কী কী স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে?
-
ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকের সংক্রমণ: চা তৈরির পর তা দীর্ঘক্ষণ ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ফেলে রাখলে তাতে খুব দ্রুত ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাস জন্ম নিতে শুরু করে। বিশেষ করে দুধ-চিনি মেশানো চা খুব দ্রুত নষ্ট হয়। সেই চা পুনরায় গরম করা হলেও ক্ষতিকর জীবাণু ও টক্সিন পুরোপুরি ধ্বংস হয় না, যা পেটে গিয়ে ফুড পয়জনিং বা ডায়রিয়ার মতো মারাত্মক সংক্রমণ ঘটাতে পারে।
-
ট্যানিনের বিষাক্ত প্রভাব: চায়ে প্রাকৃতিকভাবে ‘ট্যানিন’ নামক উপাদান থাকে। চা একবার ফুটিয়ে নামানোর পর তা ঠান্ডা হলে এবং বারবার গরম করলে সেই ট্যানিনের রাসায়নিক গঠনে পরিবর্তন ঘটে। এর ফলে চায়ের তিতকুটে ভাব বেড়ে যায় এবং অতিরিক্ত ট্যানিন পেটে গিয়ে পরিপাকতন্ত্রে মারাত্মক গোলযোগ সৃষ্টি করে।
-
পুষ্টিগুণ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাওয়া: চায়ের মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস এবং পলিফেনল আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। কিন্তু চা বারবার ফোটালে বা বেশি তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করলে এই উপকারী উপাদানগুলি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়। ফলে চা পান করেও শরীর কোনো পুষ্টিগুণ পায় না।
-
অ্যাসিডিটি ও বুকজ্বালার সমস্যা: ঠান্ডা চা পুনরায় গরম করলে তার অ্যাসিডিটি বা অম্লতার মাত্রা বহুগুণ বেড়ে যায়। এই চা পান করলে গ্যাস্ট্রিক, বুকজ্বালা, পেট ফাঁপা এবং বদহজমের মতো সমস্যাগুলি তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।
-
লিভারের ওপর অতিরিক্ত চাপ: বারবার গরম করা চায়ে নানা ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে এমন কিছু যৌগ তৈরি হয়, যা হজম করতে লিভারের ওপর মারাত্মক চাপ পড়ে। দীর্ঘমেয়াদে এই অভ্যাস শরীরের মেটাবলিজম বা বিপাক ক্রিয়াকেও ধীর করে দেয়।
স্বাস্থ্যসম্মত উপায় কী?
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, একসঙ্গে বেশি করে চা বানিয়ে তা বারবার গরম করে না খেয়ে, প্রতিবার টাটকা চা তৈরি করে পান করাই শ্রেয়। চা ঠান্ডা হয়ে গেলে তা ফেলে দেওয়া ভালো, কিন্তু কোনোভাবেই তা পুনরায় ফুটিয়ে খাওয়া উচিত নয়। সুস্থ থাকতে এবং পেটের গোলযোগ এড়াতে এই সামান্য অভ্যাসটি আজই ত্যাগ করুন।