‘কাট-অ্যান্ড-পেস্ট’ ভুলেই ফাঁপড়ে ফেসএনএল! মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের নির্দেশে ঘুম উড়ল প্রশাসনের

বিভিন্ন মামলায় ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি (FSL) থেকে যে রিপোর্টগুলি আদালতে জমা দেওয়া হয়, সেগুলি কি আদৌ সঠিক? একটি পকসো মামলার শুনানিতে ফরেনসিক রিপোর্টের চাঞ্চল্যকর গরমিল ধরা পড়ার পর এই প্রশ্নই এখন জোরালোভাবে উঠতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে, গত পাঁচ বছরে ভোপাল ফরেনসিক ল্যাবরেটরি থেকে জমা দেওয়া সমস্ত রিপোর্টের ২০ শতাংশের র‍্যান্ডম অডিটের নির্দেশ দিল মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট।

ঠিক কী ঘটেছিল আদালতে?

মধ্যপ্রদেশের ইতারসি (নর্মদাপুরম)-র বাসিন্দা পঙ্কজ কুমারকে পকসো আইন ও ধর্ষণের অভিযোগে নিম্ন আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে তিনি মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। মামলার শুনানির সময় পুলিশের কাছ থেকে ডিএনএ রিপোর্ট তলব করে আদালত।

ভোপালের ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে নির্যাতিতা ও অভিযুক্তের ডিএনএ নমুনা বিশ্লেষণ করা হয়েছিল। কিন্তু হাইকোর্ট সেই রিপোর্ট খতিয়ে দেখে অবাক হয়ে যায়। আদালত লক্ষ্য করে, ওই রিপোর্টে এমন এক অজ্ঞাত ব্যক্তির নমুনার উল্লেখ রয়েছে যাকে কেবল ‘এম’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাছাড়া, ঘটনাটি ২০২২ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসের মধ্যে ঘটার অভিযোগ থাকলেও, এফআইআর দায়ের হয় ২০২৩ সালের মে মাসে। এমনকি ঘটনার চার মাস পর নমুনা সিল করায় তার নির্ভরযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

‘টাইপিংয়ের ভুল’ সাফাইয়ে নারাজ আদালত

শুনানির সময় এফএসএল-এর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ‘কাট-অ্যান্ড-পেস্ট’ বা টাইপিংয়ের ভুলের কারণে এই ত্রুটি ঘটেছে। কিন্তু এই যুক্তিতে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে মধ্যপ্রদেশের বিচারপতি বিবেক আগরওয়াল ও বিচারপতি বিবেক জৈনের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, জীবন-মরণের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে এমন অসঙ্গতি বা ‘টাইপিংয়ের ভুল’ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যদি ডিএনএ মেলানোর তথ্যের ক্ষেত্রেও কাট-অ্যান্ড-পেস্ট ভুল হয়ে থাকে, তবে এর অর্থ দাঁড়ায় যে মধ্যপ্রদেশ রাজ্য এফএসএল-এর তৈরি ডিএনএ রিপোর্টগুলো আদতে নির্ভরযোগ্যই নয়!

হাইকোর্টের কড়া নির্দেশসমূহ:

১. র‍্যান্ডম অডিট: গত পাঁচ বছরে আদালতে জমা পড়া সমস্ত ডিএনএ রিপোর্টের ২০ শতাংশের র‍্যান্ডম অডিট করতে হবে। 2. বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন: মধ্যপ্রদেশের প্রধান সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তিনি ‘সিনিয়র সায়েন্টিফিক অফিসার’দের নিয়ে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করবেন। এই কমিটিতে অবশ্যই অন্য রাজ্যের সদস্যদের রাখতে হবে। ৩. যোগ্য পরিচালক নিয়োগ: এফএসএল-এর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ড. হর্ষা সিংয়ের জীববিজ্ঞান বা বায়োকেমিস্ট্রিতে প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতা না থাকায়, এই পদে ফরেনসিক সায়েন্সে বিশেষ যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যক্তিকে নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করতে বলা হয়েছে রাজ্য সরকারকে।

সাত দিনের মধ্যে এই স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আগামী ১২ অগস্টের মধ্যে এবিষয়ে যথাযথ হলফনামা জমা দিতে বলা হয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানি ধার্য হয়েছে আগামী ১৪ অগস্ট।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *