‘সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা অত্যন্ত কঠিন!’ ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেইর (Mojtaba Khamenei) সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতিতে যোগাযোগ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান (Masoud Pezeshkian)। তবে জনসমক্ষে তাঁর উপস্থিতি না থাকলেও, পেজেশকিয়ানের মতে, মোজতবা খামেনেইর উপস্থিতি এখনও ইরানের রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বের জন্য ‘‘একটি বিরাট শক্তির উৎস।’’
সম্প্রতি ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ‘আইআরআইবি’ (IRIB)-কে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন পেজেশকিয়ান। তিনি জানান, সরাসরি যোগাযোগ রাখা কঠিন হলেও, চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে সর্বোচ্চ নেতার এই অদৃশ্য ভূমিকা ও নির্দেশনা দেশের নেতৃত্বকে সঠিকভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করছে। পেজেশকিয়ান বলেন, ‘‘এই মুহূর্তে মোজতবা খামেনেইর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা সত্যিই খুব কঠিন, কিন্তু তাঁর উপস্থিতি আমাদের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শক্তির উৎস, যা গোটা প্রক্রিয়াটিকে সঠিক পথে পরিচালনা করতে সাহায্য করছে।’’
আড়ালেই রয়েছেন মোজতবা খামেনেই
পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়ার একেবারে প্রারম্ভিক পর্যায়ে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হন তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা তথা তাঁর পিতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই। সেই ভয়াবহ হামলায় মোজতবা খামেনেই নিজেও আহত হয়েছিলেন এবং তারপর থেকেই তাঁকে আর প্রকাশ্যে জনসমক্ষে আসতে দেখা যায়নি। যদিও তিনি বিভিন্ন সময়ে লিখিত বিবৃতি প্রকাশ করে দেশ পরিচালনা করছেন, তবে জনসমক্ষে তাঁর এই দীর্ঘ অনুপস্থিতি তাঁর শারীরিক সুস্থতা এবং অন্যান্য শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে তাঁর কাজের সমীকরণ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এমনকি গত মাসে তাঁর পিতার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানেও তিনি উপস্থিত থাকতে পারেননি।
তবে সর্বোচ্চ নেতার কড়া সমালোচকদের মুখে ছাই দিয়ে পেজেশকিয়ান তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, খামেনেইর সঙ্গে তাঁর যে সমস্ত বৈঠক হয়েছে, সেগুলি অত্যন্ত ফলপ্রসূ। আলোচনাকালে মোজতবা অত্যন্ত ‘‘সৌহার্দ্যপূর্ণ এবং যুক্তিসঙ্গত’’ আচরণ করেন বলেও জানান তিনি।
সমালোচনা ও বিভাজনের চক্রান্ত খারিজ
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান আরও অভিযোগ করেছেন যে, কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে মোজতবা খামেনেই সম্পর্কে নানা নেতিবাচক ধারণা তৈরি করে সমাজে বিভাজন ও অস্থিরতা সৃষ্টি করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
এই প্রসঙ্গে সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ার উদাহরণ টেনে তিনি জানান, যেখানে কোনো একটি প্রশাসনিক প্রস্তাবে ১৩ জন সদস্যের মধ্যে ১২ জনই সমর্থন জানান, সেই গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণভাবে মেনে নিয়েছিলেন খামেনেই। পেজেশকিয়ান বলেন, ‘‘তিনি যা বলেছেন, তা সম্পূর্ণ সঠিক ও যৌক্তিক ছিল।’’ অথচ বিশেষজ্ঞদের মতামতকে সম্মান জানানোর মতো একটি স্বাভাবিক ও সাধারণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকেও একশ্রেণির মানুষ বিতর্ক তৈরি করতে এবং ভিত্তিহীন রাজনৈতিক অভিযোগ তোলার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট।