“সব নেতার উপর বিশ্বাস উঠে গেছে!” ২৬ দিনের অনশন প্রত্যাহার নিয়ে বিস্ফোরক সোনম ওয়াংচুক

তাঁর আমরণ অনশনের জেরেই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ ও NEET প্রশ্নফাঁস বিরোধী আন্দোলন অন্য মাত্রা পেয়েছিল। দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে পুলিশ যখন তাঁকে সাদা কাপড়ে আড়াল করে তুলে নিয়ে গিয়েছিল, তখন গর্জে উঠেছিল সারা দেশ। আবার তিনিই যখন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের হাত থেকে স্যুপ খেয়ে অনশন প্রত্যাহার করেন, তখন তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন এই পরিবেশবিদ। এবার সেই অনশন ভঙ্গের নেপথ্য কাহিনীর পর্দাফাঁস করলেন সোনম ওয়াংচুক।
বুধবার ‘ইন্ডিয়া টুডে’-র কনসাল্টিং এডিটর রাজদীপ সরদেসাইকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতিশ্রুতি ভাঙার অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
কী অভিযোগ তুললেন সোনম ওয়াংচুক?
২৬ দিনের অনশন ভাঙার সময়কার ছবি প্রকাশ নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে সোনম দাবি করেন, অনশন ভাঙার পরের মুহূর্তের ছবি প্রকাশ না করার বিষয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে তাঁর স্পষ্ট সমঝোতা হয়েছিল।
-
মধ্যরাতের গোপন বৈঠক: ২৬ দিন অনশন শেষের পর মধ্যরাতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিং তাঁর সঙ্গে দেখা করতে যান। সঙ্গে ছিলেন তাঁদের নিজস্ব ফটোগ্রাফারও।
-
চুক্তিভঙ্গের অভিযোগ: সোনমের দাবি, তাঁকে কথা দেওয়া হয়েছিল যে বিরোধী শিবিরের নেতা এবং ছাত্র প্রতিনিধিদের না জানানো পর্যন্ত কোনও ছবি প্রকাশ্যে আনা হবে না। এমনকি এই সমঝোতার সাক্ষী ছিলেন খোদ আইবি (IB) শীর্ষ আধিকারিকরাও। কিন্তু মধ্যরাতের সেই প্রতিশ্রুতির কিয়দংশ রক্ষা করা হয়নি। সোনম বলেন, “কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেই সমঝোতা ভাঙা হয়। একজন আইবি অফিসার এসে জানান, সব ছবি সংবাদমাধ্যমে ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে।”
-
যৌথ উদ্যোগের ইচ্ছে: সোনমের পরিকল্পনা ছিল, অনশন ভাঙার মুহূর্তটি যেন শাসক দলের কোনো প্রচারের ইভেন্ট না হয়ে ওঠে। বরং বিরোধী দলের সদস্য ও ছাত্রনেতাদের উপস্থিতিতে এটি যেন একটি যৌথ উদ্যোগ হিসেবে সামনে আসে। কিন্তু সরকার সেই শর্ত রাখেনি।
“সব নেতার উপর বিশ্বাস চলে গেছে”
তাঁর বিরুদ্ধে কেন্দ্রের সঙ্গে গোপনে ‘সেটিং’ করে অনশন তোলার যে অভিযোগ উঠেছিল, তা তীব্র ভাষায় খারিজ করে দিয়েছেন সোনম। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “আমি চাইলে অনেক আগেই সেই চুক্তি করতে পারতাম। ২৬ দিন অনশন করার প্রয়োজনই হতো না। বলতে পারতাম, আমাকে শিক্ষামন্ত্রী করে দিন। অনেক সুযোগ ছিল। আমি তা করিনি।” এই ঘটনার পর থেকেই সমস্ত রাজনৈতিক নেতার উপর থেকে তাঁর আস্থা চিরতরে চলে গেছে বলে জানান তিনি।
#WATCH | Activist Sonam Wangchuk breaks his hunger strike in the presence of Union Health Minister JP Nadda and Minister of State for the Prime Minister’s Office, Dr Jitendra Singh, at the Medanta hospital. pic.twitter.com/CNtP0eMgv2
— ANI (@ANI) July 24, 2026
রাহুল গান্ধীকে নিয়ে বড় তথ্য ফাঁস
সাক্ষাৎকারে সোনম ওয়াংচুক জানান, তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো চেয়েছিলেন কংগ্রেস সাংসদ তথা বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী তাঁর অনশন ভাঙান। সেইমতো চেষ্টা ও যোগাযোগও করা হয়েছিল। কিন্তু বিরোধী শিবিরের তরফ থেকে কোনও ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। বাধ্য হয়েই অন্য পরিস্থিতিতে অনশন তুলতে হয়।
মূল লক্ষ্য ও অনুশোচনা নেই
সোনম স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তাঁর লক্ষ্য কখনই কোনো মন্ত্রীর পদত্যাগ আদায় করা ছিল না। বরং দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থায় পদ্ধতিগত সংস্কার এবং পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাই ছিল তাঁর একমাত্র উদ্দেশ্য। পরিশেষে তিনি বলেন, “সোনা যেমন নানা পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে খাঁটি প্রমাণিত হয়, আমিও সবকিছুকে সেভাবেই দেখি। আমার কোনো অনুশোচনা নেই।”