মোদি সরকারের চাপে নতিস্বীকার মার্ক জুকারবার্গের! মেটার বড় ভুল স্বীকারে শোরগোল টেক দুনিয়ায়

মেটার বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে শিশুদের যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত আপত্তিকর কনটেন্ট (CSAM), ডিপফেক ভিডিয়ো এবং নানা প্রযুক্তিগত ত্রুটি নিয়ে কেন্দ্র সরকারের চরম চাপের মুখে পড়তে হলো প্রযুক্তি জায়ান্ট সংস্থাকে। সূত্রের খবর, এই সমস্ত গুরুতর অভিযোগের জেরে অবশেষে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন মেটা (Meta) কর্তৃপক্ষ।

কেন এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক?

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গে মেটা কর্তৃপক্ষের একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকেই মেটার প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা সংক্রান্ত ত্রুটিগুলি নিয়ে কড়া অসন্তোষ প্রকাশ করে কেন্দ্র। সূত্রের দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি নির্দিষ্ট ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়া বা তার প্রচারের নেপথ্যে থাকা প্রযুক্তি-প্রক্রিয়ার ত্রুটির কথাও বৈঠকে স্বীকার করে নিয়েছে মেটা কর্তৃপক্ষ।

বৈঠকে মেটার প্রতিনিধিরা স্বীকার করেছেন যে, নির্দিষ্ট কিছু কনটেন্ট বা প্রচার বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিপুল অর্থ খরচ করা হয়েছিল, যা আদতে একটি বড় ভুল ছিল। এই ঘটনার জন্য তারা দুঃখপ্রকাশও করেছেন।

কেন্দ্রের কড়া বার্তা ও ‘সেফ হারবার’ বিতর্ক

তবে বিষয়টিকে শুধুমাত্র ভুলের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে নারাজ মোদী সরকার। বৈঠকে কেন্দ্র সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, যদি কোনো প্ল্যাটফর্ম নিজেই অ্যালগরিদমের মাধ্যমে ঠিক করে দেয় যে কোন ব্যবহারকারীর কাছে কোন কনটেন্ট পৌঁছবে, তবে ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি আইন অনুযায়ী তাদের কেবল নিষ্ক্রিয় ‘মধ্যস্থতাকারী’ (Intermediary) হিসেবে গণ্য করা যাবে না।

পাশাপাশি, মেটার ‘সেফ হারবার’ (Safe Harbor) আইনি সুরক্ষা পাওয়ার যোগ্যতা নিয়েও কড়া প্রশ্ন তুলেছে সরকার। কেন্দ্রের স্পষ্ট বার্তা, কনটেন্ট বাছাই ও বিতরণে প্ল্যাটফর্মগুলি যদি সক্রিয় ভূমিকা নেয়, তবে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তাদের আইনি সুরক্ষার সুবিধা পাওয়ার আর কোনো সুযোগ নেই। এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর আগামী দিনে মেটার ওপর নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি আরও কঠোর হতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক ও প্রযুক্তি মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *