মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর বাড়ি রেইকি করেছিল জঙ্গি হামিম! চিনার পার্কে গিয়েও কেন ছবি তুলতে পারেনি ধৃত?

জঙ্গি সন্দেহভাজন হিসেবে মহম্মদ হামিম মণ্ডল (Hamim Mondal)-এর গ্রেফতারির পর থেকেই একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আনতে শুরু করেছেন গোয়েন্দারা। শুরু থেকেই স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)-এর গোয়েন্দাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে, গ্যাংস্টার শাহজাদ ভাট্টি গ্যাং-এর এই সদস্যের মূল নিশানায় রয়েছেন রাজ্যের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। মুখ্যমন্ত্রীকে টার্গেট করেই সুপরিকল্পিতভাবে রেইকি করা হচ্ছিল বলে দাবি এসটিএফের। আর এবার হামিমকে জেরা করে আরও বিস্ফোরক সব তথ্য হাতে পেলেন তদন্তকারীরা।
চিনার পার্ক ও নিউ টাউনে রেইকি
গোয়েন্দাদের জেরা করে হামিম স্বীকার করেছে যে, সে চিনার পার্কে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বাড়ি সচক্ষে রেইকি করে এসেছিল। মুখ্যমন্ত্রী বাড়িটি সে স্বচক্ষে দেখে আসলেও, নিরাপত্তা বলয়ের কারণে সেখানে কোনো ছবি বা ভিডিয়ো তুলতে পারেনি। জানা গিয়েছে, বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির আশপাশের চত্বরে প্রচুর পরিমাণে সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরা এবং কঠোর নিরাপত্তা থাকায় সে ছবি তোলার সাহস পায়নি।
শুধু বাড়ি বা বাসস্থান নয়, মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় যে নির্দিষ্ট রুট দিয়ে যাতায়াত করে, সেই পথও খুঁটিয়ে রেইকি করা হয়েছিল বলে দাবি করেছে এসটিএফ। নিউ টাউন এলাকায় মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়ের রুট রেইকি করার জন্য সে বিশেষভাবে একটি ক্যাব (Cab) ভাড়া করে যাতায়াত করেছিল। গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, আধুনিক প্রযুক্তির সিসিটিভির নজরদারি এড়িয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গেই রেইকি ও গোপন তথ্য সংগ্রহের কাজ চালাত হামিম।
যন্তর মন্তরেও নাশকতার ছক
শুধু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ওপর হামলার ছক কষাই নয়, এর পাশাপাশি দিল্লির যন্তর মন্তরে চলা বিভিন্ন আন্দোলন ও জনসমাগমের মধ্যেও নাশকতার ছক কষেছিল এই সন্দেহভাজন জইশ-ই-মহম্মদ (Jaish-e-Mohammed) জঙ্গি হামিম মণ্ডল। সরাসরি পাকিস্তান থেকে সীমান্তপারের হ্যান্ডলারদের কাছ থেকে তার কাছে বিভিন্ন নির্দেশ আসত বলে এর আগে এক সাংবাদিক বৈঠকে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এনেছিল বেঙ্গল এসটিএফ। বর্তমানে ধৃতকে জেরা করে এই আন্তর্জাতিক জঙ্গি নেটওয়ার্কের আরও গভীরে পৌঁছানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা।