টাকার লোভে ১৫ বছরের মেয়েকে দেড় লাখে বিক্রি গর্ভধারিণী মায়ের! পুরো টাকা না পেয়ে শেষ পর্যন্ত যা করলেন…

টাকার লোভ মানুষকে কতটা নিচে নামাতে পারে, তার এক মর্মান্তিক ও শিউরে ওঠা ঘটনা প্রকাশ্যে এল উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনে। আর্থিক লাভের আশায় নিজের ১৫ বছরের নাবালিকা মেয়েকে দেড় লক্ষ টাকায় বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠল খোদ মায়ের বিরুদ্ধে! শুধু তাই নয়, ক্রেতার কাছ থেকে পুরো টাকা না পেয়ে বাকি টাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে উল্টে থানায় মেয়ের অপহরণের ভুয়ো অভিযোগ দায়ের করেছিলেন সেই গর্ভধারিণী মা। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার তদন্তে নেমে অভিযুক্ত মা-সহ মোট চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ঠিক কী ঘটেছিল দেরাদুনে?
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দেরাদুনের সহস্ত্রধারা রোড এলাকার বাসিন্দা ওই মহিলা গত মাসে রাজপুর থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ১৩৭(২) ধারায় নিজের মেয়ের অপহরণের একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরেই ঘটনার তদন্তে নামে পুলিশ।
তদন্তে নেমে পুলিশ উত্তরপ্রদেশের মুজফ্ফরনগর থেকে নিরাপদে ওই নাবালিকাকে উদ্ধার করে। একই সঙ্গে এই পাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে ৩৭ বছর বয়সি মনীশ এবং ২৪ বছর বয়সি লভি কুমার নামে দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়।
জেরায় সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য
পুলিশি জেরায় ধৃতদের কাছ থেকে যে তথ্য উঠে আসে, তাতে তদন্তকারীরাও তাজ্জব বনে যান। জানা যায়, লভি কুমার ওই নাবালিকার মায়ের কাছ থেকে পিঙ্কি মালিক (৩৭) নামের এক মহিলার মাধ্যমে দেড় লক্ষ টাকায় মেয়েটিকে কিনেছিল। এরপর মেয়েটির বিয়ের ব্যবস্থা করার উদ্দেশ্যে তাকে আরও বেশি অর্থাৎ ২ লক্ষ টাকায় মনীশের কাছে বিক্রি করে দেয় সে। এই তথ্য সামনে আসার পরেই পুলিশ পিঙ্কি মালিক এবং নাবালিকার মাকে পাকড়াও করে।
অপহরণের মিথ্যে নাটকের নেপথ্যে কী?
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করে নেয় নাবালিকার মা। সে জানায়, দেড় লক্ষ টাকায় নিজের মেয়েকে বিক্রি করলেও মধ্যস্থতাকারী পিঙ্কি মালিকের কাছ থেকে সে মাত্র ৮০ হাজার টাকা পেয়েছিল। বাকি টাকা না দেওয়ায় সেই ক্ষোভে এবং বাকি টাকা আদায়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করতেই সে থানায় মেয়ের অপহরণের মিথ্যা নাটক সাজিয়ে অভিযোগ দায়ের করেছিল।
বর্তমানে এই মানবপাচার চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না এবং অভিযুক্তরা অতীতেও এ ধরনের কোনো অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এই জঘন্য ঘটনায় এলাকায় চরম চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।