অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ₹৩০০০ আসতে দেরি হচ্ছে কেন? জেনেনিন কি বলছে সরকার?

বাংলার প্রতি ঘরে ঘরে এখন একটাই আলোচনার বিষয়— এ মাসে কি যথাসময়ে অ্যাকাউন্টে ঢুকবে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ (Annapurna Bhandar)-এর ৩০০০ টাকা? গত দু’মাসের ট্রেন্ড দেখে মাসের শুরুতেই টাকা পাওয়ার আশায় ছিলেন সাধারণ মানুষ। কিন্তু অগাস্টের ৪ তারিখ পেরিয়ে গেলেও বেশিরভাগ মহিলার অ্যাকাউন্ট এখনও ফাঁকাই রয়েছে। ফলে জনমনে তৈরি হয়েছে তীব্র জল্পনা ও উদ্বেগ।
টাকা ঢোকার ক্ষেত্রে হঠাৎ এই দেরি কেন?
সরকারের তরফ থেকে আগেই জানানো হয়েছিল যে, যোগ্য আবেদনকারীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ডিবিটি (DBT) মারফত এই টাকা পাঠানো হবে। তবে বর্তমান বিলম্বের প্রধান কারণ হলো নথি ও তথ্যের ঝাড়াই-বাছাই বা ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া।
বর্তমানে রাজ্যের প্রতিটি বিধানসভা এলাকা জুড়ে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের তথ্য যাচাইয়ের কাজ চলছে অত্যন্ত যুদ্ধকালীন তৎপরতায়। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা যৌথভাবে সমস্ত আবেদনপত্র খতিয়ে দেখছেন, যাতে কোনো ভুল থাকলে তা দ্রুত সংশোধন করে নেওয়া যায়।
কারা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা পাবেন না?
সরকারের নিয়মানুযায়ী, যে সমস্ত আবেদনপত্রে বা ব্যক্তিগত নথিতে গুরুতর অসঙ্গতি বা গরমিল ধরা পড়বে, তাঁদের এই প্রকল্পের অনুদান বাতিল করা হবে। এর মধ্যে প্রধানত রয়েছে:
-
আয়করদাতা: কোনো মহিলা বা তাঁর পরিবার আয়কর দিয়ে থাকলে তাঁরা সরাসরি এই প্রকল্পের বাইরে চলে যাবেন।
-
সরকারি চাকরি বা পেনশন: কোনো মহিলা যদি স্থায়ী সরকারি চাকুরিজীবী হন কিংবা অবসর নেওয়ার পর নিয়মিত সরকারি পেনশন পেয়ে থাকেন, তবে তাঁরা মাসিক এই ভাতা পাবেন না।
-
আধার সিডিং সমস্যা: ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার লিঙ্ক বা সিডিং (Aadhaar Seeding) না করা থাকলে টাকা পাঠানো সম্ভব হবে না।
কবে নাগাদ মিলতে পারে টাকা?
প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ১ অগাস্ট বা মাসের শুরুতেই সকলের অ্যাকাউন্টে একসঙ্গে টাকা জমা হবে এমন কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম নেই। ভেরিফিকেশন বা যাচাইকরণ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যোগ্য আবেদনকারীদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
সম্প্রতি উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পরিষ্কার জানিয়েছেন, অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদন যাচাইয়ের কাজ জোরকদমে চলছে এবং প্রশাসনের মূল লক্ষ্য ৩০ অগাস্টের মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা। সমস্ত যোগ্যতার শর্ত পূরণ করলে রাজ্যের কোনো বঞ্চিত মহিলারই দুশ্চিন্তা করার কোনো কারণ নেই, প্রত্যেকেই এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।