‘৩০ বছরের দুর্গ ধূলিসাৎ!’ বাঁকিপুরে ঐতিহাসিক জয় ছিনিয়ে নিলেন প্রশান্ত কিশোর, উপনির্বাচনে বড় ধাক্কা বিজেপির

সোমবার দেশজুড়ে হওয়া উপনির্বাচনের ফলাফলে ভারতীয় রাজনীতিতে এক বড়সড় ও চাঞ্চল্যকর উলটপুরাণ দেখা গেল। একদিকে ভোটকুশলী থেকে পুরোদস্তুর রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠা প্রশান্ত কিশোরের (Prashant Kishor) দল ‘জন সুরাজ পার্টি’ বিহারের বাঁকীপুর কেন্দ্রে ঐতিহাসিক জয় ছিনিয়ে নিল, অন্যদিকে মধ্যপ্রদেশের দতিয়া আসনটিতেও বড় ধাক্কা খেয়েছে শাসক দল বিজেপি। তবে এর মাঝে কিছুটা স্বস্তির খবর হলো, গুজরাতের মঞ্জলপুর আসনটি নিজেদের দখলেই রেখেছে গেরুয়া শিবির।
বাঁকীপুরে পিকের ঐতিহাসিক মার্জিন ও জয়
বিহারের বাঁকীপুর আসনটিকে এতদিন বিজেপির সবচেয়ে সুরক্ষিত ‘স্ট্রংহোল্ড’ বা দুর্গ হিসেবেই ধরা হতো। ১৯৯৫ সাল থেকে গত ৩০ বছর ধরে এই আসনটি লাগাতার বিজেপির দখলেই ছিল। বিগত বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে বর্তমান বিজেপি সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন দায়িত্ব সামলেছিলেন। তিনি রাজ্যসভায় চলে যাওয়ার পর শূন্য হওয়া এই উপনির্বাচনে প্রথমবার নিজে প্রার্থী হয়ে ময়দানে নেমেছিলেন প্রশান্ত কিশোর (পিকে)।
বিকেল ৪টে পর্যন্ত পাওয়া হিসাব অনুযায়ী, ১৫ হাজার ৮৬৪ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে থেকে নিজের জয় নিশ্চিত করেন পিকে। বাঁকীপুরের মতো বিত্তশালী ও শহুরে মধ্যবিত্ত অধ্যুষিত এলাকায় প্রশান্তর এই বিশাল সাফল্য এবং প্রায় ৫০ শতাংশ ভোট পাওয়া আগামী দিনের বিহার রাজনীতিতে বড় ধরনের হাওয়াবদলের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এই জয়ে ‘জন সুরাজ পার্টি’-র কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উৎসবের আমেজ শুরু হয়েছে।
মধ্যপ্রদেশে পিছিয়ে বিজেপি, গুজরাতে স্বস্তি
শুধু বিহারই নয়, মধ্যপ্রদেশের দতিয়া উপনির্বাচন কেন্দ্র থেকেও শাসক দলের জন্য অস্বস্তিকর খবর এসেছে। ১০ রাউন্ড গণনার পর সেখানে কংগ্রেস প্রার্থী ঘনশ্যাম সিংহ প্রায় ১০ হাজার ভোটে এগিয়ে রয়েছেন। যদিও তখনো ৫ রাউন্ড গণনা বাকি ছিল, তবুও এই ফলাফল বিজেপি শিবিরকে নতুন করে ভাবাতে শুরু করেছে। অন্যদিকে, গুজরাতের মঞ্জলাপুর আসনে অবশ্য বিজেপি প্রার্থী সতীশ পটেল শুরু থেকেই এগিয়ে থাকায় সেখানে কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে গেরুয়া শিবির।