রাস্তায় থুতু বা জঞ্জাল ফেললেই সোজা পকেটে টান! কড়া জরিমানা ঘোষণা করলেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল

শহরকে আরও পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও নাগরিকবান্ধব করে তুলতে এবার অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপের পথে হাঁটছে রাজ্য সরকার। রাস্তায় যত্রতত্র থুতু ফেলা কিংবা যেখানে-সেখানে আবর্জনা ছড়িয়ে শহর নোংরা করলে এবার থেকে গুনতে হতে পারে ২০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা। শুধু তাই নয়, রাস্তা দখল করে যত্রতত্র নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখা কিংবা দীর্ঘদিন ধরে খালি জমি অপরিষ্কার রাখার বিরুদ্ধেও খুব শীঘ্রই চালু হতে চলেছে কড়া জরিমানার ব্যবস্থা। রবিবার শিলিগুড়ি পুরনিগমে অনুষ্ঠিত উত্তরবঙ্গের পুর পরিষেবা সংক্রান্ত ম্যারাথন রিভিউ বৈঠক শেষে এই কঠোর বার্তা দিলেন রাজ্যের নগর উন্নয়ন ও পৌর বিষয়ক মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
শিলিগুড়িতে উত্তরবঙ্গের পুর পরিষেবা নিয়ে ম্যারাথন বৈঠক
রবিবার সকালেই বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে সরাসরি শিলিগুড়ি পুরনিগমে পৌঁছে জনসংযোগ কর্মসূচিতে অংশ নেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। ফোনের মাধ্যমে সরাসরি সাধারণ মানুষের অভিযোগ, সমস্যা ও বিভিন্ন পরামর্শ শোনার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকদের দ্রুত সমস্যা সমাধানের নির্দেশ দেন তিনি। এরপর দিনভর চলা উচ্চপর্যায়ের রিভিউ বৈঠকে কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং ও শিলিগুড়ি-সহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন পুরসভার উন্নয়নমূলক প্রকল্প, নাগরিক পরিষেবা, রাস্তাঘাট, পরিচ্ছন্নতা এবং পরিকাঠামো নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়।
এদিনের বৈঠকে পাহাড়ি এলাকার কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পানীয় জলের সংকট বিশেষ গুরুত্ব পায়। কালিম্পং, কার্শিয়াং ও মিরিকে আধুনিক সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট (Solid Waste Management) গড়ে তোলা এবং দীর্ঘমেয়ادي পরিকল্পনার মাধ্যমে দার্জিলিং-সহ পাহাড়ি অঞ্চলে টেকসই পানীয় জল সরবরাহ নিশ্চিত করার রূপরেখা তৈরি করা হয়। বিশেষ করে কালিম্পংয়ের তীব্র জলসংকট দূর করতে বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দের প্রসঙ্গও বৈঠকে উঠে আসে।
উল্লেখ্য, এই ম্যারাথন রিভিউ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ রাজু বিস্তা, রাজ্যের পর্যটন ও পরিষদীয় মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ, উত্তরবঙ্গের একাধিক বিধায়ক, বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি ও উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। ব্যস্ত কর্মসূচির মাঝেও মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল দিল্লি পাবলিক স্কুলের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ফের পুরনিগমে ফিরে এসে বৈঠকে অংশ নেন।
মন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা
পরিচ্ছন্নতা ও জট কমানোর বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানান,
“শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা শুধু একাই পুরসভার দায়িত্ব নয়, এর জন্য সাধারণ নাগরিকদেরও সমান দায়িত্ব নিতে হবে। তাই রাস্তায় থুতু ফেলা বা জঞ্জাল ছড়ানোর মতো বদভ্যাসের বিরুদ্ধে ২০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানার ব্যবস্থা কার্যকর করা হচ্ছে। পাশাপাশি রাস্তা দখল করে নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখা এবং দীর্ঘদিন ধরে খালি জমি অপরিষ্কার বা জঙ্গলময় করে রাখার ক্ষেত্রেও খুব শীঘ্রই কঠোর জরিমানার নতুন নিয়ম চালু করা হবে। পাহাড়ি এলাকায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পানীয় জলের স্থায়ী সমাধানেও রাজ্য সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।”
প্রশাসনের মতে, রাজ্য সরকারের এই সময়োপযোগী ও কড়া সিদ্ধান্তগুলি সঠিকভাবে কার্যকর করা গেলে উত্তরবঙ্গের সমতল থেকে পাহাড়ি এলাকার শহরগুলিতে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে এক বিরাট বিপ্লব আসবে। একই সঙ্গে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে এবং পুর পরিষেবার মানোন্নয়ন ও টেকসই নগর উন্নয়নের লক্ষ্যে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ আগামী দিনে উত্তরবঙ্গের সামগ্রিক পরিকাঠামোকে আরও অনেক বেশি শক্তিশালী করে তুলবে।