সন্ত্রাসে সহায়তার মারাত্মক অভিযোগ! ইন্টারপোলের আন্তর্জাতিক ওয়ান্টেড তালিকায় টেলিগ্রাম প্রতিষ্ঠাতা?

বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত জনপ্রিয় চ্যাটিং প্ল্যাটফর্ম টেলিগ্রাম (Telegram) এবং এর প্রতিষ্ঠাতা পাভেল ধ্রুভ (Pavel Durov) এক বিরাট আইনি বিপদের মুখে পড়েছেন। রাশিয়ার প্রধান অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা FSB (Federal Security Service) পাভেল ধ্রুভের বিরুদ্ধে সরাসরি সন্ত্রাসে সহায়তার মারাত্মক অভিযোগ এনেছে। এমনকি তাঁকে আন্তর্জাতিক ওয়ান্টেড (International Wanted) তালিকাতেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে খবর। রাশিয়ায় দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর আজীবন কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে।

রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার বিস্ফোরক অভিযোগ

রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার দাবি, টেলিগ্রামের বহু চ্যানেল এবং বিশেষ কিছু চ্যাটবট ব্যবহার করে দেশটিতে সাইবার প্রতারণা ও নাশকতামূলক কার্যকলাপ চালানো হচ্ছে। FSB-র অভিযোগ, একটি জনপ্রিয় ডেটিং চ্যাটবটকে হাতিয়ার করে ইউক্রেনীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি রুশ নাগরিকদের প্রলুব্ধ করছে এবং তাদের দেশের ভেতর সন্ত্রাসমূলক কাজে যুক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। গত জুলাই মাস থেকে রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এই চ্যাটবটের সঙ্গে যুক্ত ১২ থেকে ২২ বছর বয়সী প্রায় ৪৬ জনকে আটক করা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

পাভেল ধ্রুভের পালটা অবস্থান

গোটা বিষয়টিকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণের ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন পাভেল ধ্রুভ। তাঁর অভিযোগ, টেলিগ্রামের গোপনীয়তা নীতি এবং প্ল্যাটফর্মের উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ কায়েম করতেই রাশিয়া সরকার এই ধরনের মিথ্যা ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছে।

ইন্টারনেটের ওপর রাশিয়ার কঠোর নিয়ন্ত্রণ

বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ক্রেমলিন ইন্টারনেটের ওপর রাশিয়ার নাগরিকদের প্রবেশাধিকার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করেছে। এর আগে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও এক্স (সাবেক টুইটার)-এর মতো প্ল্যাটফর্ম রাশিয়ায় নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ইউটিউবের গতি কমানোর পাশাপাশি সিগন্যাল ও ভাইবারের মতো মেসেজিং অ্যাপও ব্লক করা হয়েছে।

শুধু তাই নয়, টেলিগ্রাম বা হোয়াটসঅ্যাপের বিকল্প হিসেবে রাশিয়া এবার MAX নামক একটি নিজস্ব মেসেজিং অ্যাপ চালুর চেষ্টা করছে। তবে সমালোচকদের আশঙ্কা, সরকারি নজরদারি এবং ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই অ্যাপ তৈরি করা হয়েছে, যেখানে কোনো এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশনও নেই। এমতাবস্থায়, পাভেল ধ্রুভের বিরুদ্ধে রাশিয়ার এই কঠোর পদক্ষেপে বিশ্বজুড়ে টেলিগ্রামের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *