“আগে নিজে রোজগার করতে দাও!” বিয়ের কথা উঠলেই ঠিক কী সাফাই দেন NEET আন্দোলনের হোতা অভিজিৎ?

মাস দুয়েক আগেও যিনি সাধারণ মানুষের কাছে অনেকটাই অচেনা ছিলেন, তিনিই এখন দেশের যুবসমাজের অন্যতম আলোচিত মুখ। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র প্রতিষ্ঠাতা তথা NEET প্রশ্নফাঁস আন্দোলনের মূল হোতা অভিজিৎ দীপকের নাম এখন সকলের মুখে মুখে ফিরছে। তাঁর এই হঠাৎ তারকাখ্যাতি এবং রাজনৈতিক উত্থানের মাঝেই তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নতুন তথ্য সামনে আনলেন তাঁর মা অনিতা দীপকে।

কেন বিয়ে করতে রাজি নন অভিজিৎ?

সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অভিজিতের মা অনিতা দীপকে জানান, এই আন্দোলন বা সিজেপি গঠনের ঢের আগে থেকেই ছেলের জন্য বিভিন্ন জায়গা থেকে বিয়ের প্রস্তাব আসতে শুরু করেছিল। গত দু’বছরে তাঁদের কাছে একাধিক বিয়ের প্রস্তাব এলেও অভিজিৎ নিজে বরাবরই তা এড়িয়ে গেছেন।

চলতি বছর ৩০ বছরে পা দেওয়া অভিজিৎ কেন এখনই বিয়ের পিঁড়িতে বসতে নারাজ, তার ব্যাখ্যা দিয়ে মা অনিতা বলেন, “ও আমাদের পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে— ‘পড়াশোনা শেষ করে আগে নিজের পায়ে দাঁড়াতে দাও, ভালো রোজগার করতে দাও। নিজের আয় না থাকলে বিয়ে করব কী করে?’ আমরা ওকে বুঝিয়েছিলাম যে আমাদের যথেষ্ট সচ্ছলতা আছে, কিন্তু ও নিজের রোজগারের ওপরই জোর দিতে চায়।” পাশাপাশি তিনি এও জানান যে অভিজিৎ অত্যন্ত সৎ প্রকৃতির এবং বিয়ের যৌতুক হিসেবে জামাকাপড় ছাড়া আর কিছুই নিতে চান না।

পরিবারের চাওয়া ও বর্তমান পরিস্থিতি

প্রত্যেক মা-বাবার মতোই অভিজিতের পরিবারও চায় ছেলে বিয়ে করে থিতু হোক। অনিতা দেবীর কথায়, অভিজিতের বাকি তুতো ভাই-বোনদের বিয়ে হয়ে গেলেও সে এখনও নিজের কেরিয়ার ও আন্দোলন নিয়েই ব্যস্ত। দেশজুড়ে চলা আন্দোলনের জেরে অভিজিতের সঙ্গে এই মুহূর্তে ঠিকমতো কথাই বলতে পারছেন না পরিবার। অনিতা জানান, “ওর সঙ্গে এখন তো কথা বলার সময়ই নেই। ভিডিও কলে শুধু স্বাস্থ্য কেমন আছে খোঁজ নিই, আধ ঘণ্টা মতো কথা বলেই ও ঘুমিয়ে পড়ে।” আমেরিকার বস্টন ইউনিভার্সিটিতে উচ্চশিক্ষা লাভ করা অভিজিৎ আমেরিকা থেকেই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র সূচনা করেন এবং গত জুন মাসে দেশে ফিরে NEET আন্দোলনকে অন্য মাত্রায় পৌঁছে দেন। তাঁর নেতৃত্বেই শিক্ষা মন্ত্রকে বড়সড় পরিবর্তন এসেছিল। তবে আপাতত বিয়ের কথা ভুলে দেশের তরুণ প্রজন্মের আন্দোলন ও নিজের লক্ষ্যেই সম্পূর্ণ মনোনিবেশ করতে চান এই তরুণ নেতা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *