“সবার আগে মায়ের চিকিৎসা!” সম্পত্তির লোভে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখার অভিযোগে পুলিশকে বড় নির্দেশ হাইকোর্টের

সম্পত্তির লোভ মানুষের সব মানবিক বোধ কেড়ে নিতে পারে, তার আরও এক মর্মান্তিক প্রমাণ মিলল এবার। আলঝাইমার্সে আক্রান্ত অসুস্থ বৃদ্ধা মাকে ঘরে বন্দি করে রাখার অভিযোগ উঠল তিন ছেলের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, অভিযোগ উঠেছে জোর করে মায়ের থেকে জমি-জায়গার নথি ও সোনার গয়না হাতিয়ে নেওয়ারও। এই অমানবিক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। বুধবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য অবিলম্বে মায়ের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিয়ে পুলিশকে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

ঠিক কী ঘটেছিল?

মামলাকারী সমীর মাইতির আইনজীবী আদালতে জানান, তাঁর মক্কেলের বাবা ২০১৮ সালের ১৪ মে মারা যান। মৃত্যুর আগে তিনি সমস্ত সম্পত্তি স্ত্রী সন্ধ্যা রানি মাইতিকে দানপত্র করে যান। এরপর বয়সজনিত কারণে এবং একটি পথ দুর্ঘটনার জেরে আলঝাইমার্সে আক্রান্ত হন বৃদ্ধা মা। অভিযোগ, এই সুযোগে তিন ভাই মিলে মাকে একটি ঘরে বন্দি করে রাখেন এবং দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখেন।

মায়ের সমস্ত সম্পত্তি ও সোনার গয়না জোর করে হাতিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে ওই তিন ভাইয়ের বিরুদ্ধে। এর প্রতিবাদ করায় চতুর্থ ভাই সমীর মাইতিকে মারধর করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ ও আদালতের নির্দেশ

মামলাকারীর দাবি, গত ১৮ মে ও ৩০ মে জীবনের নিরাপত্তা এবং মায়ের চিকিৎসার আর্জি জানিয়ে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পুলিশ সুপার ও স্থানীয় থানায় বারবার আবেদন করা হলেও পুলিশ কোনো পদক্ষেপ করেনি। বাধ্য হয়েই আদালতের দ্বারস্থ হন সমীরবাবু।

এদিন মামলার শুনানিতে রাজ্যের পক্ষ থেকে জানানো হয় এটি সম্পূর্ণ পারিবারিক সম্পত্তি সংক্রান্ত বিবাদ। তবে সমস্ত সওয়াল-জবাব শোনার পর বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “সম্পত্তি অন্য বিষয়, সবার আগে মায়ের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা।” এরপরই ভূপতিনগর থানাকে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে কড়া নজরদারি চালিয়ে বৃদ্ধা মায়ের স্বাস্থ্য ও বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে অনুসন্ধান করে হাইকোর্টে রিপোর্ট পেশ করার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *