“জীবনেও মুখে সাবান দিইনি!” ৫০ পেরিয়েও কীভাবে টানটান ত্বক? গোপন রহস্য ফাঁস করলেন শিল্পা শেট্টি

বয়স পঞ্চাশ পেরিয়ে গেলেও তাঁর রূপ আর মেদহীন ছিপছিপে শরীরের তারুণ্য যেন আজও আগের মতোই অটুট! বলিপাড়ার ফিটনেস কুইন শিল্পা শেট্টির উজ্জ্বল ও টানটান ত্বক আজও লাখ লাখ ভক্তের কাছে চরম ঈর্ষণীয়। নিয়মিত যোগব্যায়াম তাঁর সুস্থতার মূল ভিত্তি হলেও, সম্প্রতি নিজের রূপচর্চা নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছেন এই অভিনেত্রী।

এক সাক্ষাৎকারে শিল্পা স্পষ্ট জানান যে, তিনি তাঁর পুরো জীবনে কখনোই মুখে সাধারণ সাবান ব্যবহার করেননি!

“মুখে সাবান দেওয়া ত্বকের জন্য মারাত্মক!”

সাক্ষাৎকারে নিজের বিউটি সিক্রেট শেয়ার করে শিল্পা বলেন, “আমি আমার জীবনে কখনো মুখে সাবান লাগাইনি। এমনকি আমার মা-ও কোনোদিন মুখে সাবান ব্যবহার করেননি। আমার মতে, ত্বকের সৌন্দর্য ধরে রাখার সবচেয়ে ভালো পরামর্শ হলো— মুখ থেকে সাবানকে দূরে রাখা।”

সাবানের বদলে তিনি ত্বকের আর্দ্রতা ও স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে কোল্ড-প্রেসড তেল, বিশেষ করে ক্যাস্টর অয়েল (Castor Oil) ব্যবহার করতে বেশি ভালোবাসেন।

কেন মুখে সাবান মাখবেন না? বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন?

চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, মুখের ত্বক শরীরের অন্যান্য অংশের ত্বকের তুলনায় অনেক বেশি সংবেদনশীল ও কোমল।

  • pH-এর ভারসাম্য নষ্ট: ক্ষারযুক্ত সাধারণ সাবান ব্যবহার করলে মুখের স্বাভাবিক পিএইচ (pH) ভারসাম্য দ্রুত বিঘ্নিত হয়।

  • প্রাকৃতিক তেলের স্তর ধ্বংস: সাবান ত্বকের সুরক্ষাকারী আর্দ্রতার স্তর (Protective Barrier) কেড়ে নেয়। ফলে মুখ অতিরিক্ত শুষ্ক, রুক্ষ ও খসখসে হয়ে পড়ে।

  • ত্বকের সমস্যা বৃদ্ধি: সংবেদনশীল ত্বকে বারবার সাবান দিলে জ্বালাপোড়া, ব্রণ কিংবা এগজিমার মতো চর্মরোগ বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে।

শরীর পরিষ্কারে সাবান কখন ও কীভাবে ব্যবহার করবেন?

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাবান মূলত শরীরের জন্য তৈরি, মুখের জন্য নয়। তবে শরীরেও প্রতিদিন অতিরিক্ত সাবান মাখার প্রয়োজন নেই। বদলে ব্যবহার করা যেতে পারে মৃদু বডি ওয়াশ বা শাওয়ার জেল।

সারাদিন ধুলোবালি, দূষণ বা অতিরিক্ত ঘাম হলে তবেই গোসলের সময় সাবান ব্যবহার করা উচিত। বিশেষ করে বগল, পায়ের পাতা ও অতিরিক্ত ঘাম হওয়া স্থানগুলি সাবান দিয়ে পরিষ্কার রাখা জরুরি।

ত্বকের ধরন অনুযায়ী সঠিক ক্লিনজার বেছে নিন

মুখ পরিষ্কার রাখতে সাবানের বদলে ত্বকের ধরন অনুযায়ী মাইল্ড ফেসওয়াশ বা ক্লিনজার ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়:

ত্বকের ধরন যে ধরনের ক্লিনজার ব্যবহার করবেন
শুষ্ক ত্বক (Dry Skin) গ্লিসারিন বা সিরামাইড সমৃদ্ধ হাইড্রেটিং ক্রিম/লোশন ক্লিনজার।
তৈলাক্ত ও ব্রণ-প্রবণ স্যালিসিলিক অ্যাসিডযুক্ত হালকা জেল বা ফোমিং ফেসওয়াশ।
কম্বিনেশন ত্বক পিএইচ ব্যালেন্সড মাইল্ড ফেসওয়াশ।
সংবেদনশীল ত্বক নিয়াসিনামাইড বা অ্যালোভেরা সমৃদ্ধ সুগন্ধিহীন (Fragrance-free) ক্লিনজার।

অন্যের দেখাদেখি নয়, বরং নিজের ত্বকের ধরন বুঝে যত্ন নেওয়াই সুন্দর ও বয়সের ছাপমুক্ত ত্বক পাওয়ার আসল পথ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *