২০২৭ নির্বাচন ঘিরে তোলপাড় ইউপি! মায়াবতীর সবচেয়ে বড় বাজপাখি এখন আকাশ আনন্দ, কোথায় শুরু হচ্ছে প্রচার?

আগামী বছর ২০২৭ সালে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ভারতের সবচেয়ে হাই-ভোল্টেজ রাজ্য উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচন। আর সেই ভোটযুদ্ধের দামামা বাজতেই ঘুঁটি সাজাতে শুরু করেছে সব রাজনৈতিক দলই। ২০০৭ সালে পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার সরকার গড়ার পর থেকে বিগত কয়েক বছরে উত্তরপ্রদেশে বিএসপির জনপ্রিয়তা যেভাবে তলানিতে ঠেকেছে, তা পুনরুদ্ধারে এবার বড় সিদ্ধান্ত নিলেন বিএসপি সুপ্রিমো মায়াবতী।

দলের ক্রমহ্রাসমান ঐতিহ্যবাহী ভোটব্যাঙ্ককে ফের চাঙ্গা করতে এবং সংগঠনে নতুন অক্সিজেন জোগাতে নির্বাচনী প্রচারণার মূল মুখ করা হয়েছে তাঁর ভাইপো তথা বিএসপি-র জাতীয় আহ্বায়ক আকাশ আনন্দ-কে।

১০ই আগস্ট সাদাবাদ থেকে শুরু হচ্ছে প্রচার
প্রাপ্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ১০ই আগস্ট হাথরাস জেলার হাই-প্রোফাইল সাদাবাদ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে মায়াবতীর দল তাদের বিধানসভা ভিত্তিক প্রচার অভিযান শুরু করতে চলেছে।

কৌশলগত সভা: ওই দিন সাদাবাদে বিএসপির বিধানসভা ইনচার্জের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবেন আকাশ আনন্দ। এরপর তিনি স্থানীয় দলীয় কর্মী ও শীর্ষ পদাধিকারীদের নিয়ে এক জনসভায় ভাষণ দেবেন।

পরবর্তী গন্তব্য জেওয়ার: সাদাবাদের পর আগামী ২৫শে আগস্ট জেওয়ারে একটি বড় জনসভা করার কথা রয়েছে আকাশ আনন্দের।

প্রার্থী ঘোষণার ইঙ্গিত: সূত্র মারফৎ জানা যাচ্ছে, ১০ই আগস্ট সাদাবাদ আসনে দলীয় প্রার্থী (বিধানসভা ইনচার্জ) হিসেবে অভিন শর্মা-র নাম ঘোষণা করতে পারেন আকাশ। সাধারণত বিএসপি প্রথমে ইনচার্জ ঘোষণা করে এবং নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারি হলে তাঁদেরই আনুষ্ঠানিক প্রার্থী করে থাকে।

ঐতিহ্যবাহী জাট-ব্রাহ্মণ-মুসলিম সমীকরণ ও সাদাবাদের ইতিহাস
হাথরাসের অন্তর্গত এই সাদাবাদ আসনটি বিএসপির প্রচারের জন্য বেছে নেওয়া এক অত্যন্ত চতুর রাজনৈতিক কৌশল। কারণ এই আসনে জয়-পরাজয়ের শেষ কথা বলেন জাট, ব্রাহ্মণ ও মুসলিম ভোটাররা। তার মধ্যে জাট সম্প্রদায়ের ভোটারদের প্রভাব সবচেয়ে বেশি।

সাদাবাদ আসনের বিগত নির্বাচনের ট্রেন্ড:

এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়া ১৭টি নির্বাচনের মধ্যে কংগ্রেস জিতেছে ৫ বার, আরএলডি ৩ বার এবং বিজেপি ও জনতা দল জিতেছে ২ বার করে।

গত তিনটি বিধানসভা নির্বাচনে এখানে তিনটি ভিন্ন দল জিতেছে। ২০১২ সালে সমাজবাদী পার্টি, ২০১৭ সালে বিএসপির রামবীর উপাধ্যায় (যিনি পরে বিজেপিতে যান) এবং সবশেষে ২০২২ সালে আরএলডির প্রদীপ কুমার সিং জয়লাভ করেন।

ঘুরে দাঁড়ানোর শেষ লড়াই বিএসপির
মায়াবতী সুপ্রিমো হলেও বিএসপির রণকৌশল এখন অনেকটাই তরুণ নেতা আকাশ আনন্দের ওপর নির্ভর করছে। উত্তরপ্রদেশের প্রতিটি কোণায় জেলাস্তরে জনসভা ও সাংগঠনিক বৈঠক করে বহুজন সমাজ পার্টিকে তৃণমূল থেকে মজবুত করাই এখন আকাশের প্রধান লক্ষ্য। আগামী ২০২৭ নির্বাচনে বিএসপির এই ‘আকাশ-নীতি’ কতটা ফলপ্রসূ হয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা দেশের রাজ্য রাজনীতি!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *