ভারতে ১০০ কোটির বেশি আয় করেন ৫৭৬ জন! সংসদের দেওয়া তথ্যে মাথায় হাত সাধারণ মানুষের

ভারতে ১০০ কোটি টাকা বা তার বেশি বার্ষিক আয় করা মানুষের সংখ্যা আশঙ্কাজনক গতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সম্প্রতি সংসদে কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের পেশ করা এক লিখিত প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। ২০২৫-২৬ মূল্যায়ন বর্ষে (AY) দেশে ১০০ কোটি টাকার বেশি আয় দেখানো করদাতার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৭৬ জনে।

গত সোমবার (২৭ জুলাই) লোকসভায় এক প্রশ্নের জবাবে অর্থ মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরী জানান, আগের মূল্যায়ন বর্ষে (২০২৪-২৫) এই সংখ্যাটি ছিল ৪১৫। আর পাঁচ বছর আগে, অর্থাৎ ২০২১-২২ বর্ষে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ১৪২। হিসাব বলছে, গত পাঁচ বছরে দেশে এই স্তরের অতিধনীদের সংখ্যা ৩০০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

বছরের হিসাবে ভারতের অতিধনীদের তালিকা:

সংসদে পেশ করা তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ বছরে আয়কর রিটার্নে ১০০ কোটি টাকার বেশি আয় দেখানো ব্যক্তির সংখ্যা রূপ নিয়েছে ঠিক এই রকম:

মূল্যায়ন বর্ষ (AY) অতিধনী করদাতার সংখ্যা
২০২১-২২ ১৪২ জন
২০২২-২৩ ৩০১ জন
২০২৩-২৪ ২৮৪ জন
২০২৪-২৫ ৪১৫ জন
২০২৫-২৬ ৫৭৬ জন

‘বিলিয়নেয়ার’ বনাম আসল করদাতা: সরকারের বিশেষ ব্যাখ্যা

সংসদে প্রশ্নে “বিলিয়নেয়ার” শব্দ ব্যবহার করা হলেও, সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে আয়কর আইনে ‘বিলিয়নেয়ার’ শব্দের কোনো নির্দিষ্ট আইনি বা প্রাতিষ্ঠানিক সংজ্ঞা নেই। তাই মূলত আয়কর রিটার্নে (ITR) প্রদর্শিত আয়ের ওপর ভিত্তি করেই ১০০ কোটি টাকার বেশি আয় করা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা হয়েছে।

এছাড়াও, ২০১৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে ‘ওয়েলথ-ট্যাক্স অ্যাক্ট, ১৯৫৭’ বা সম্পত্তি কর আইন রদ করায়, বর্তমানে কোনো ব্যক্তির মোট ব্যক্তিগত সম্পদের সরকারি হিসাব রাখার নিয়ম নেই।

বৈষম্য বৃদ্ধি কি ঘটছে? যা জানাল অর্থ মন্ত্রক

দেশে কি ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান বাড়ছে? এই প্রশ্নের জবাবে অর্থ মন্ত্রক কিছু সরকারি পরিসংখ্যান তুলে ধরে বৈষম্য কমার দাবি করেছে:

  • গিনি কোএফিশিয়েন্ট (Gini Coefficient): ‘হাউসহোল্ড কনজাম্পশন এক্সপেন্ডিচার সার্ভে ২০২৩-২৪’ অনুযায়ী, গ্রামীণ অঞ্চলে আর্থিক বৈষম্য মাপার সূচক ০.২৬৬ থেকে কমে হয়েছে ০.২৩৭ এবং শহরাঞ্চলে ০.৩১৪ থেকে কমে হয়েছে ০.২৮৪।

  • দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্থান: নীতি আয়োগের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২৪ কোটি ৮২ লক্ষ মানুষ দারিদ্র্যসীমার ওপর উঠে এসেছেন। পাশাপাশি বেকারত্বের হার ২০২২ সালের ৩.৬% থেকে কমে ২০২৫ সালে ৩.১%-এ দাঁড়িয়েছে।

সরকারের কর কৌশল: অতিধনীদের ওপর উচ্চ কর হারের পাশাপাশি অতিরিক্ত সারচার্জ (Surcharge) আরোপ করা হচ্ছে। এই অতিরিক্ত করের টাকা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, পিএম-কিষাণ, জল জীবন মিশন ও আয়ুষ্মান ভারতের মতো জনকল্যাণমূলক প্রকল্প রূপায়ণ করা হচ্ছে বলে সরকারের তরফে জানানো হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *