“বাকস্বাধীনতার জয় এখানেই!” কলকাতায় ফেরার আগেই পোস্ট তসলিমার, ১ অগস্ট বড় চমক রবীন্দ্র সদনে?

দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও নানা রাজনৈতিক নাটকের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে নিজের ‘প্রিয় শহর’ কলকাতায় ফিরছেন প্রখ্যাত সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিন। মাঝে আর মাত্র হাতে গোনা ক’টা দিন। আগামী ৩১ জুলাই গভীর রাতে তিলোত্তমায় পা রাখবেন তিনি। তার আগেই তসলিমার নাম ও ছবি-সহ কলকাতা শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে শোভা পাচ্ছে অনুষ্ঠানের রঙিন হোর্ডিং। দূরে থাকলেও সেই হোর্ডিংয়ের ছবি নজরে এসেছে লেখিকার। আর তা দেখেই সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেগঘন এক বার্তা পোস্ট করেছেন তিনি।

নিজের অতীতের তিক্ত স্মৃতির কথা স্মরণ করে তসলিমা লেখেন:

“কলকাতাতে আজ থেকে ১২ বছর আগে মেগাসিরিয়াল ‘দুঃসহবাস’-এর গল্প লিখেছিলাম বলে শহরের সব হোর্ডিং খুলে নেওয়া হয়েছিল, নাটকটির সম্প্রচারও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আজকের এই নতুন হোর্ডিং কিন্তু কেউ খুলে নিচ্ছে না! বাকস্বাধীনতার আসল জয় এখানেই।”

১ অগস্ট রবীন্দ্র সদনে মেগা ইভেন্ট, থাকতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী!
জানা গেছে, ১ অগস্ট কলকাতার ঐতিহ্যবাহী রবীন্দ্র সদনে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন লেখিকা। সঙ্গে রয়েছে তাঁর আরও কিছু ব্যস্ত সূচি। ‘সেক্যুলার মিশন’ ও ‘এইচআরবিএফএফ’ (HRBFF)-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে বলে আয়োজক সূত্রে দাবি করা হয়েছে।

উদ্যোক্তাদের সূত্রে আরও জানানো হয়, তসলিমা নাসরিন কেন ভারতে প্রবেশ বা অবস্থান করতে পারছেন না— সেই প্রশ্ন প্রথম রাজ্যসভায় তুলেছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। বাংলাদেশে মৌলবাদী শক্তির বিরুদ্ধে তসলিমার সাহসী অবস্থানের প্রশংসা করে তাঁকে বাংলায় ফেরানোর বিষয়ে প্রথম থেকেই সরব ছিলেন তিনি।

২০০৭-এর অশান্তি ও নির্বাসনের পর ‘পরিবর্তনের বাংলা’য় ফেরা
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের নভেম্বর মাসে তসলিমা নাসরিনের একটি বইকে কেন্দ্র করে তিলোত্তমা কলকাতায় তীব্র বিক্ষোভ ও অশান্তির সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তৎকালীন বাম সরকার নিরাপত্তার স্বার্থে রাতারাতি তাঁকে রাজ্য ছাড়তে বাধ্য করেছিল।

২০০৭ সালের সেই অভিশপ্ত ঘটনার পর বহু বছর কেটে গিয়েছে। বহু জল গড়িয়েছে গঙ্গায়, রাজ্যে ঘটেছে রাজনৈতিক পরিবর্তন। সেই ‘পরিবর্তনের বাংলা’য় দাঁড়িয়ে এখন অতীত ভুলে তসলিমাকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত শহর কলকাতা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *