‘বেইমানির পরেও তৃণমূলের নাম?’ সংসদে শর্মিলার নামের পাশে AITC দেখতেই বিস্ফোরক কৃষ্ণনগরের সাংসদ!

পঁচিশের ভোটের পর ছাব্বিশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বঙ্গে ক্ষমতা হারিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। হাতে এখন পড়ে রয়েছে মাত্র গুটি কয়েক সাংসদ! দলটির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত প্রায় ২০ জন সাংসদ ইতিমধ্যেই বিক্ষুব্ধ শিবিরে নাম লিখিয়ে ‘এনসিপিআই’ (NCPI)-তে মিশে গিয়েছেন, বর্তমানে তাঁরা এনডিএ-এর (NDA) অন্যতম শরিক। তবে এত বড় ভাঙনের পরও মঙ্গলবারের লোকসভায় দেখা গেল এক অভাবনীয় দৃশ্য! বিক্ষুব্ধ তালিকায় নাম লেখানো বর্ধমানের সাংসদ শর্মিলা সরকার যখন বক্তব্য রাখতে ওঠেন, তখন সংসদের স্ক্রিনে তাঁর নামের পাশে জ্বলজ্বল করছিল ‘AITC’ (অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস)।
আর এই সুযোগ হাতছাড়া না করে অমনি চরম কটাক্ষ নিয়ে ময়দানে নেমে পড়েছেন কালীঘাটপন্থী তথা কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র।
“বিজেপি B টিম লিখে নিন প্লিজ!” — বিস্ফোরক মহুয়া
মঙ্গলবার সংসদে পেপার লিক প্রতিরোধ সম্পর্কিত বিল নিয়ে আলোচনা চলছিল। সেখানেই বক্তব্য রাখতে দাঁড়িয়েছিলেন পূর্ব বর্ধমানের সাংসদ তথা পেশায় মনোরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক শর্মিলা সরকার। তিনি যখন বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন টিভির পর্দায় তাঁর নামের পাশে তৃণমূলের দলীয় প্রতীক ও পরিচিতি ভাসছিল।
তক্ষণাৎ সেই ছবির স্ক্রিনশট তুলে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে পোস্ট করেন মহুয়া মৈত্র। ক্যাপশনে তীব্র সুর চড়িয়ে তিনি লেখেন:
“ও মা -সে কি? এতো বেইমানি গদ্দারির পরেও সেই AITC-টা নামের পাশে রইল? বিজেপি B টিম লিখে নিন প্লিজ…।”
মহুয়ার এই পোস্ট মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় এবং রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় সৃষ্টি করে।
আনকোরা মুখ থেকে এনডিএ শিবিরের সম্ভাব্য মন্ত্রী!
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে পূর্ব বর্ধমানের দুই বারের জয়ী সাংসদ সুনীল মণ্ডলকে সরিয়ে সম্পূর্ণ আনকোরা নতুন মুখ শর্মিলা সরকারের ওপর ভরসা রেখেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শর্মিলা বিপুল ভোটে জিতে দলের মুখ উজ্জ্বল করেছিলেন। কিন্তু ২০২৬ সালের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল ক্ষমতাচ্যুত হতেই একের পর এক সাংসদ কাকলী ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে তৃণমূল ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তোপ দেগে দল ছাড়তে শুরু করেন।
শর্মিলা সরকারও সেই বিক্ষুব্ধ দলেই যোগ দেন। বর্তমানে দিল্লির অলিন্দে জোর জল্পনা, এনডিএ-র শরিক হিসেবে এনসিপিআই-এর বর্ষীয়ান নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও শর্মিলা সরকার শীঘ্রই স্থান পেতে পারেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায়!
তবে তৃণমূলের কালীঘাটপন্থী শিবির এখনও সেই ২০ জন বিক্ষুব্ধ সাংসদকে ‘গদ্দার’ ও ‘মীরজাফর’ বলেই নিশানা করে চলেছে। মঙ্গলবারেও সংসদে প্রযুক্তিগত ভুলের কারণে শর্মিলার নামের পাশে AITC ভেসে উঠতেই পুরোনো দলের সেই তীব্র রাজনৈতিক ক্ষোভই আবার মহুয়া মৈত্রের তোপে প্রকাশ পেল।