আমেরিকা-ইরান যুদ্ধে আহত ৬০০ পার! সেনার মৃত্যুর তালিকা নিয়ে কেন বিভ্রান্তি? বিস্ফোরক তথ্য দিল পেন্টাগন!

তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ সরকারিভাবে শেষ হলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাতের আগুনে যেন ঘৃতাহুতি পড়েছে। সংঘাতের সাম্প্রতিক তীব্রতায় হতাহত সেনা সদস্যদের সঠিক হিসাব রাখতে এবার পেন্টাগন তাদের ক্যাজুয়ালটি তালিকায় একটি নতুন ও পৃথক বিভাগ যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তবে নিহত ও আহত সেনাসদস্যদের স্থান পরিবর্তনের এই কৌশল নিয়ে রাজনৈতিক ও সামরিক মহলে চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

‘ইরান যুদ্ধ’ থেকে সরিয়ে ‘বিদেশি অভিযান’!
পেন্টাগনের ‘ডিফেন্স ক্যাজুয়ালটি অ্যানালাইসিস সিস্টেম’ (DCAS)-এর সাম্প্রতিক পদক্ষেপ ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থানকেই পুনর্ব্যক্ত করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ঘোষণা করেন, বর্তমান সংঘাতটি ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত আগের সংঘাতের অংশ নয়, বরং এটি সম্পূর্ণ একটি ‘স্বতন্ত্র সংঘাত’।

এর পরপরই পেন্টাগন জুলাইয়ের সাম্প্রতিক হামলায় প্রাণ হারানো ৪ জন মার্কিন সেনা এবং বহু আহত জওয়ানকে তাদের মূল ‘ইরান যুদ্ধ’ ক্যাটাগরি থেকে সরিয়ে ‘ওভারসিজ অপারেশনস’ (বিদেশি অভিযান) নামের একটি নতুন বিভাগে স্থানান্তর করেছে।

যদিও সেনার মৃত্যুর খবর আড়াল করার এই অভিযোগ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলে পেন্টাগন স্পষ্ট জানায়, এটি কোনো তথ্য গোপনের চেষ্টা নয়। শুধুমাত্র ‘সাময়িক তথ্য বিভ্রাট ও টেকনিক্যাল অসঙ্গতি’র কারণে সমস্যাটি হয়েছিল, যা সমাধান করে নতুন তালিকায় আনা হয়েছে।

যুদ্ধবিরতি ভেঙে লাফিয়ে বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা
গত ১৭ জুনের সমঝোতা চুক্তির আওতায় যে যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, তা গত ৭ জুলাই থেকে উভয় পক্ষের হামলায় পুরোপুরি ভেস্তে যায়। ৮ জুলাই ট্রাম্প ঘোষণা দেন যে চুক্তির মেয়াদ শেষ এবং ১০ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে পুনরায় যুদ্ধ শুরুর কথা জানান।

নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার পর ক্ষয়ক্ষতির যে পরিসংখ্যান সামনে এসেছে, তা বেশ উদ্বেগজনক:

আহতের সংখ্যা বাড়ছে হু হু করে: পেন্টাগনের রবিবারের হিসাব অনুযায়ী, কেবল ৭ জুলাইয়ের পর থেকেই আহত হয়েছেন আরও ২০৭ জন মার্কিন জওয়ান। ফলে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং নতুন ‘ওভারসিজ অপারেশনস’ মিলিয়ে মোট আহত সেনার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৪২ জনে (যার মধ্যে কিছু তালিকায় ৬২৪ হিসেবেও প্রতিফলিত)।

সরকারিভাবে মৃত ১৮: নতুন করে সংঘাত শুরুর পর জুলাইয়ের শুরুতেই প্রাণ হারিয়েছেন ৪ জন মার্কিন সেনা। গত ১৭ জুলাই জর্ডানের ঘাঁটিতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ৩ জন এবং তার একদিন পর ইরাকে ড্রোনের আঘাতে ১ সেনার মৃত্যু হয়।

অভিযান কি আদৌ শেষ? তুঙ্গে প্রশ্নাবলি
গত মে মাসে হোয়াইট হাউসের এক ব্রিফিংয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দাবি করেছিলেন যে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ সমাপ্ত হয়েছে এবং আমেরিকা তার লক্ষ্য অর্জনে সফল। তবে সামরিক বাস্তবচিত্র অন্য কথা বলছে।

গত সপ্তাহে মার্কিন কংগ্রেসের সামনে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ কিন্তু ইরান সংঘাত শেষ হয়েছে বলে দাবি করেননি। বরং আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই সংঘাত চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সম্ভাব্য আকাশচুম্বী বাজেটের হিসাব আইনপ্রণেতাদের সামনে তুলে ধরেছেন। ফলে আপাতভাবে বিরতি বা নাম বদল হলেও আমেরিকা-ইরান সংঘাতের জল যে বহুদূর গড়াতে চলেছে, তার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *