‘পুলিশের নোয়াপাতি ভুঁড়ি আর নয়!’ ফিটনেস ফেরাতে থানা-ব্যারাকে জিম তৈরির বড় ঘোষণা

অতিরিক্ত কাজের চাপ, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস এবং মানসিক চাপ—পুলিশ কর্মীদের জীবনযাপনের এই চেনা ছবির প্রভাব সরাসরি পড়ে তাঁদের স্বাস্থ্যে। ফলে চাকুরিতে যোগদানের পর অনেকেরই মেদ জমে চেহারা নষ্ট হয়ে যায়। এবার সেই চেনা ছবি বদলাতে এবং পুলিশ বাহিনীকে মানসিকভাবে ও শারীরিকভাবে আরও চাঙ্গা করে তুলতে বড় পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করা হলো।
মঙ্গলবার ভবানী ভবনে রাজ্য পুলিশের ‘মনসুন কিট’ বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে পুলিশ কর্মীদের শারীরিক সুস্থতা ও পরিকাঠামো উন্নয়নে একগুচ্ছ নতুন পরিকল্পনার কথা জানান।
“আপনাদের আরও বেশি স্পোর্টসম্যান হতে হবে। শারীরিক কসরতের জন্য থানা ও ব্যারাকে আধুনিক জিম ও স্পোর্টস সামগ্রী দেবে সরকার।”
যা যা নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে:
-
শারীরিক ফিটনেস ও জিম: পুলিশ কর্মীদের খেলাধুলো ও নিয়মিত শরীরচর্চায় উৎসাহিত করতে প্রতিটি থানা এবং পুলিশ ব্যারাকে আধুনিক সরঞ্জামসহ জিম তৈরি করা হবে।
-
থানার পরিকাঠামো উন্নয়ন: রাজ্যের ৫৫২টি থানার মধ্যে যেগুলিতে পানীয় জল, আলো বা স্থায়ী ভবনের মতো মৌলিক পরিকাঠামোর অভাব রয়েছে, সেগুলির আধুনিকীকরণ করা হবে। প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০টি থানার রূপবদলে নেওয়া হচ্ছে বিশেষ পরিকল্পনা।
-
আধুনিক যান ও প্রযুক্তি: পুলিশের প্রায় ৪,০০০টি পুরনো গাড়ি বদলে আনা হবে আধুনিক প্রযুক্তির নতুন গাড়ি। বাড়ানো হবে বডি ক্যামেরা, সিসিটিভি এবং যানবাহনের ইনসিওরেন্স ব্যবস্থা।
-
মানবিক বদলি নীতি: ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে বাড়ির বাইরে থাকা কর্মী এবং মহিলা পুলিশ কর্মীদের কাজের সুবিধার্থে পছন্দসই বা সুবিধাজনক স্থানে পোস্টিং দেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
জরাজীর্ণ পুলিশ আবাসনগুলির দ্রুত মেরামতের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি পুলিশ বাহিনীকে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আধুনিক ও কর্মক্ষম করে তোলাই এখন মূল লক্ষ্য।