ধর্মতলায় পুলিশ-বিক্ষোভকারী সংঘর্ষের পর তেরঙা যাত্রা! কলকাতার উত্তাল রাজনীতির রেশ গড়াল রাজপথে

দিল্লির ছাত্র আন্দোলনের আঁচ এবার এসে পড়েছিল খাস কলকাতা শহরের বুকেও। দেশজুড়ে চলা প্রতিবাদের সমর্থনে মিছিল করার জন্য লালবাজারের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুমতি চেয়েছিল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)। কিন্তু সেই অনুমতি মেলেনি। এর পরেই শিয়ালদা থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত বিশাল এক মিছিলের ডাক দেয় আটটি বাম ছাত্র সংগঠন। সেই মিছিলেই শেষ পর্যন্ত সক্রিয়ভাবে যোগ দেয় সিজেপি। কিন্তু গত শুক্রবার এই মিছিলের একেবারে অন্তিম পর্বে পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করে।

ডোরিনা ক্রসিংয়ে রণক্ষেত্র পরিস্থিতি
শুক্রবার শিয়ালদা থেকে শুরু হওয়া মিছিল যখন ধর্মতলার ডোরিনা ক্রসিংয়ে পৌঁছায়, তখন পুলিশের সঙ্গে প্রবল বচসা ও ধস্তাধস্তি শুরু হয় আন্দোলনকারীদের। পুলিশি ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। আন্দোলনে বাধা পেয়ে ক্ষুব্ধ বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দিকে জুতো, ইট এবং জলের বোতল ছুড়তে শুরু করে বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং ভিড় সরাতে তড়িঘড়ি কাঁদানে গ্যাসের শেল (Tear Gas) ফাটায় পুলিশ। নিমেষে ধর্মতলা চত্বর এক যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়।

সন্ধ্যে গড়াতেই বাম ছাত্র সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, তাঁরা ওই ডোরিনা ক্রসিংয়েই অবস্থান বিক্ষোভে বসছেন। যদিও ছাত্র আন্দোলনকারীদের দাবি, পুলিশের ওপর হামলা বা এই হিংসাত্মক ঘটনার সঙ্গে তাঁদের মূল সংগঠনের কোনো যোগ নেই। তাঁদের অভিযোগ, আন্দোলনের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে ভেতর থেকে ভেঙে দিতে বাইরে থেকে কিছু বহিরাগত সমাজবিরোধীকে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও ‘তেরঙা যাত্রা’
সবচেয়ে বড় কথা, এই গোটা আন্দোলন ও গণ্ডগোলের মাঝে পড়ে চরম নিগ্রহের শিকার হতে হয় কর্তব্যরত সাংবাদিকদের। সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরা পার্সন ও রিপোর্টারদের ওপর চড়াও হয়ে হেনস্থা করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে সর্বত্র। এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সাংবাদিক সুরক্ষায় এবং ডোরিনা ক্রসিংয়ের ঘটনার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ হিসেবে নির্দিষ্ট রুটে জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে ‘তেরঙা যাত্রা’ করার হুঙ্কার দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই ঘোষণা মতো সোমবার ঠিক সেই একই রুটে দেশের তেরঙা পতাকা হাতে এক বিশাল যাত্রা সংঘটিত হয়, যা কলকাতার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *