সংসদের স্বীকৃতি নেই, তবুও এনডিএ বৈঠকে ডাক! কাকলি-সুদীপদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে বিরাট ধোঁয়াশা

ভোটের ফল প্রকাশের পরই ‘বিক্ষুব্ধ’ হয়ে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে এনসিপিআই (NCPI)-তে মিশে যাওয়া এবং পরবর্তীতে এনডিএ (NDA)-র শরিক হওয়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল কম হয়নি। কাকলি ঘোষদস্তিদার, শতাব্দী রায়, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়দের মতো হেভিওয়েট সাংসদদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে এখন নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বড় প্রশ্ন হলো—এই মুহূর্তে কাকলি-সুদীপরা ঠিক কোন দলের সাংসদ পরিচয়ে পরিচিত? কারণ, আইনগতভাবে এখনও লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এনসিপিআই-কে আলাদা সংসদীয় দল হিসেবে কোনো স্বীকৃতি বা মান্যতা দেননি। বিষয়টি এখনও বিচারাধীন থাকলেও, এরই মাঝে এনডিএ-র গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে আমন্ত্রণ পেয়েছেন তাঁরা।
তৃণমূলের পরিচয়েই এনডিএ বৈঠকে কাকলি-সুদীপরা
নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশের পরই তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় দলে ভাঙন ধরে। ভোটের পর থেকেই ‘বেসুরো’ হয়ে ওঠা কাকলি ঘোষদস্তিদার, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী রায়, দেব-রা দিল্লিতে গিয়ে ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেন। প্রথমে জল্পনা ছিল তাঁরা সরাসরি বিজেপিতে যোগ দেবেন, কিন্তু পরবর্তীতে সমীকরণ বদলে যায়।
কাকলি ও সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ প্রায় ২০ জন বিক্ষুব্ধ সাংসদ দল থেকে বেরিয়ে এনসিপিআই-এর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ঘোষণা করেন এবং এনডিএ-র শরিক হিসেবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন। এনসিপিআই যাতে পৃথক সংসদীয় দলের স্বীকৃতি পায়, সে জন্য বাদল অধিবেশনের প্রায় এক মাস আগেই স্পিকারের কাছে আবেদন জমা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অধিবেশনের এক সপ্তাহ কেটে গেলেও সেই স্বীকৃতি মেলেনি। ফলস্বরূপ, লোকসভার অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে এখনও এই বিক্ষুব্ধ সাংসদদের নামের পাশে ‘তৃণমূল কংগ্রেস’ (TMC)-এর সাংসদ হিসেবেই পরিচয় বজায় রয়েছে। আর সেই কারণেই বাধ্য হয়ে আজকের এনডিএ বৈঠকে তাঁদের তৃণমূল সাংসদের পরিচয়েই যোগ দিতে হয়েছে।
বিরোধীদের আপত্তি ও সর্বদলীয় বৈঠকের জলঘোলা
এর আগে বাদল অধিবেশন শুরুর প্রাক্কালে সর্বদলীয় বৈঠকেও এই বিক্ষুব্ধ সাংসদদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, যা নিয়ে সংসদ চত্বরে তীব্র শোরগোল পড়ে যায়। স্পিকারের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি ছাড়াই একটি দল কীভাবে এই ধরনের বৈঠকে ডাক পায়, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তীব্র প্রতিবাদ জানায় এবং প্রতীকী ওয়াকআউটও করে বিরোধীরা। এমনকি গত সপ্তাহে এনডিএ-র মূল বৈঠকে কাকলি-সুদীপদের ডাকা না হলেও, আজ তাঁদের আমন্ত্রণ জানানো হয়।
বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ ও সুদীপ-শুভেন্দু বৈঠক
এই সমস্ত ঘটনার মাঝেই বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা দানা বেঁধেছে। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি এনসিপিআই শেষ পর্যন্ত সরাসরি বিজেপিতেই মিশে যাবে? কাকলি-শতাব্দী-সুদীপদের বিজেপিতে আনুষ্ঠানিক যোগদান কি এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা?
এই জল্পনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে সাম্প্রতিক এক রাজনৈতিক বৈঠক। খবর ছিল, আজ দিল্লিতে এনসিপিআই সাংসদদের সঙ্গে বিশেষ বৈঠকের কথা ছিল বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতার। কিন্তু ব্যস্ততার কারণে তিনি দিল্লি যেতে না পারায়, সোমবার সোজা নবান্নে গিয়ে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক সারেন শুভেন্দু অধিকারী। দুই নেতার এই গোপন সাক্ষাতের পরই রাজনৈতিক মহলে চর্চা বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে। সব মিলিয়ে, দিল্লির সংসদ ভবন থেকে কলকাতার নবান্ন—চলতি রাজনৈতিক পটপরিবর্তন কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।