মাত্র ১ কেজির জন্য হাতছাড়া সোনা! গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে দুর্দান্ত রুপো জয় ভারতের ভাল্লুরি অজয় বাবুর

মাত্র ১ কেজি ওজনের ব্যবধান! আর তাতেই হাতছাড়া হয়ে গেল সোনা। গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬ (Commonwealth Games 2026)-এর পুরুষদের ৭৯ কেজি ভারোত্তোলনে দুর্দান্ত লড়াই চালিয়ে শেষ পর্যন্ত রুপোর পদক জিতে নিলেন ভারতের ভাল্লুরি অজয় বাবু (Valluri Ajaya Babu)। সোমবার রাতের এই রুদ্ধশ্বাস ফাইনাল ম্যাচের প্রতি মুহূর্তেই টানটান উত্তেজনা বজায় ছিল।

রেকর্ড ভাঙাগড়ার স্নায়ুযুদ্ধ
ফাইনালে মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে বারবার ভাঙল গেমসের রেকর্ড। শেষ পর্যন্ত অবশ্য হাসি হাসলেন মালয়েশিয়ার এরী হিদায়াত মহম্মদ, যিনি মোট ৩৩১ কেজি ওজন তুলে সোনা নিজের নামে করেন। অন্যদিকে, ২১ বছরের তরুণ ভারতীয় ভারোত্তোলক অজয় মোট ৩৩০ কেজি (স্ন্যাচে ১৪৯ এবং ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ১৮১ কেজি) তুলে দ্বিতীয় স্থানে শেষ করেন। এছাড়া ইংল্যান্ডের ক্রিস মারে ৩২৫ কেজি তুলে ব্রোঞ্জ পদক জয় করেন।

ম্যাচের শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন অজয়। স্ন্যাচে প্রথম চেষ্টায় ১৪৫ কেজি তোলার পর, তৃতীয় তথা শেষ চেষ্টায় ১৪৯ কেজি সফলভাবে তুলে কমনওয়েলথ গেমসের নতুন রেকর্ড গড়েন তিনি। বিরতির সময় তিনি মারে এবং মহম্মদকে পিছনে ফেলে শীর্ষে ছিলেন। তবে ক্লিন অ্যান্ড জার্ক বিভাগে লড়াই চরম আকার ধারণ করে। সোনা জয়ের লড়াই মূলত ভারত বনাম মালয়েশিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। মালয়েশিয়ার মহম্মদ ১৮১ কেজি তুলে রেকর্ড গড়লে, পালটা দিতে দেরি করেননি অজয়ও। তিনিও ১৮১ কেজি তুলে মোট ৩৩০ কেজি নিয়ে ফের শীর্ষস্থান দখল করেন। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি, মহম্মদ তাঁর চূড়ান্ত লিফটে ১৮৪ কেজি তুলে সোনা ছিনিয়ে নেন।

পারিবারিক উত্তরাধিকার ও গর্বের ইতিহাস
অজয়ের এই রুপো জয় নিছকই একটি পদক নয়, এর পেছনে জড়িয়ে রয়েছে এক গভীর পারিবারিক লড়াই ও ঐতিহ্যের গল্প। অন্ধ্রপ্রদেশের বিজয়নগরম জেলার ছোট্ট গ্রাম কোন্ডাভেলাগাডা, যা পাথর তোলার প্রাচীন ঐতিহ্য ও ভারোত্তোলনের আঁতুড়ঘর হিসেবে পরিচিত, সেখান থেকেই উঠে এসেছেন অজয়।

তাঁর বাবা ভাল্লুরি শ্রীনিবাস রাও একসময়ের আন্তর্জাতিক ভারোত্তোলক ছিলেন এবং ২০১০ সালের দিল্লি কমনওয়েলথ গেমসে ৫৬ কেজি বিভাগে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন। বর্তমানে পেশায় ফুলচাষি শ্রীনিবাসের হাত ধরেই অজয়ের ভারোত্তোলনে হাতেখড়ি হয়েছিল। ঠিক ১৬ বছর পর গেমসের মঞ্চে বাবার সেই সাফল্যের গণ্ডি পেরিয়ে ইতিহাস গড়লেন ছেলে অজয়।

গ্লাসগোয় ভারতের ভারোত্তোলন জয়যাত্রা
আন্তর্জাতিক স্তরে ২১ বছর বয়সি অজয়ের উত্থান সত্যিই ঈর্ষণীয়। এর আগে ২০২৫ সালে আমেদাবাদে কমনওয়েলথ চ্যাম্পিয়নশিপে ৩৩৫ কেজি তুলে সোনা জিতে গ্লাসগোর টিকিট পাকা করেছিলেন তিনি। এছাড়া ২০২৪ সালে ফিজিতে জুনিয়র ও সিনিয়র—উভয় বিভাগেই সোনা জয়ের কৃতিত্ব রয়েছে তাঁর। এই পদক জয়ের ফলে গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমস থেকে ভারতের ভারোত্তোলন বিভাগে এটি ষষ্ঠ পদক (Sports News)।

একনজরে গ্লাসগোয় ভারতের ৬ জন পদকজয়ী ভারোত্তোলক:

মীরাবাঈ চানু — সোনা (মহিলাদের ৪৮ কেজি)

ভাল্লুরি অজয় বাবু — রুপো (পুরুষদের ৭৯ কেজি)

জ্ঞানেশ্বরী যাদব — রুপো (মহিলাদের ৫৩ কেজি)

চানামবাম ঋষিকান্ত সিং — রুপো (পুরুষদের ৬০ কেজি)

মুথুপাণ্ডি রাজা — রুপো (পুরুষদের ৬৫ কেজি)

বিন্দিয়ারানি দেবী — ব্রোঞ্জ (মহিলাদের ৫৮ কেজি)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *