দিল্লির প্রতিবাদে কী ব্যবহার হয়েছিল পেলেট গান? চাঞ্চল্যকর বিতর্কের জেরে এবার বড় পদক্ষেপ CRPF-এর

গত ২০ জুলাই দিল্লিতে সিটিজেনস ফর জাস্টিস অ্যান্ড পিস বা সিজেপি-র (CJP) ‘সংসদ চলো’ অভিযান চলাকালীন বিক্ষোভকারীদের হটাতে পেলেট গান বা ছররা গুলি ব্যবহার করা হয়েছিল কি না—তা নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে এখন তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই পুরো বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খ খতিয়ে দেখতে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছে সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (CRPF)। বিশেষ করে সিআরপিএফ-এর অধীনস্থ র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স বা আরএএফ-এর (RAF) ভূমিকা নিয়ে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরি করা হচ্ছে।
সরকারি অস্বীকার বনাম আহতদের বিস্ফোরক দাবি
পুলিশ ও সরকারের পক্ষ থেকে বারবার দাবি করা হয়েছে যে, বিক্ষোভ দমনে কেবল লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছিল। কোনোভাবেই পেলেট বা ছররা গুলি ছোঁড়া হয়নি। তবে বাস্তবে অন্তত চারজন আন্দোলনকারী পেলেট বিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জোরালো দাবি উঠেছে।
সম্প্রতি লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এক সাংবাদিক বৈঠকে সাহিল লোচাব নামের এক আহত বিক্ষোভকারীকে পাশে বসিয়ে এই ইস্যুতে সরকারকে আক্রমণ করেন। সাহিলের জামা তুলে শরীরে থাকা ছররা গুলির ক্ষতচিহ্ন দেখিয়ে রাহুল স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “সরকারকে মিথ্যা বলা বন্ধ করতে হবে। আন্দোলনকারীদের উপর বলপ্রয়োগের এটাই জলজ্যান্ত প্রমাণ।” রাহুলের দাবি, পতাকা হাতে শান্তিপূর্ণভাবে হেঁটে যাওয়া যুবকদের উপর পুলিশ পেলেট ব্যবহার করেছে, যার ফলে সাহিলের চোখের দৃষ্টিও আজ বিপন্ন।
রোমহর্ষক অভিজ্ঞতা আহত যুবকের মুখে
আহত পেলেট-শিকার এক যুবক সংবাদমাধ্যমকে জানান, ঘটনার দিন এক পুলিশকর্মীকে তাঁর দিকে বন্দুক তাক করতে দেখেই তিনি পেছনের দিকে ঘুরে দৌড় লাগান। ঠিক তখনই তিনি পিঠে ও কনুইয়ের কাছে প্রচণ্ড যন্ত্রণা অনুভব করেন, যা তাঁর ভাষায় যেন উত্তপ্ত লোহা চামড়া ফুঁড়ে ঢুকে যাওয়ার মতো। তিনি যদি সে সময় না ঘুরতেন, তবে সরাসরি তাঁর মুখেই গুলি লাগত। চারপাশে তখন প্রচণ্ড বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল এবং আরও অনেকেই একই ধরনের মারাত্মক আঘাত পান।
সিআরপিএফ ও পুলিশের অবস্থান
অন্যদিকে, সিআরপিএফ সূত্রে খবর, কনট প্লেস এলাকায় হওয়া এই সংঘর্ষে আরএএফ-এর ৪৭ জনেরও বেশি জওয়ানও আহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে কয়েকজনের আঘাত অত্যন্ত গুরুতর। সাধারণত সমস্ত কম-মারাত্মক বা অহিংস উপায়—যেমন জলকামান, টিয়ার গ্যাস বা লাঠিচার্জ ব্যর্থ হওয়ার পরই শেষ অস্ত্র হিসেবে পেলেট বন্দুক ব্যবহার করার প্রটোকল রয়েছে। যেকোনো বড় অপারেশনের পর স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (SOP) মেনেই এই পেশাদার পর্যালোচনা শুরু করেছে সিআরপিএফ। এখন দেখার, এই অভ্যন্তরীণ তদন্তের শেষে সিআরপিএফ তাদের চূড়ান্ত রিপোর্টে আরএএফ-এর ভূমিকা নিয়ে ঠিক কী তথ্য প্রকাশ করে।