আমেরিকা হামলা থামাতেই কি চওড়া হলো ইরানের বুক? হরমুজ প্রণালী ও অবরোধ নিয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি

টানা ১৩ রাত ধরে ইরানের ওপর ধ্বংসাত্মক বিমান হামলা চালানোর পর অবশেষে বড়সড় বিরতি দিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশেই আপাতত ইরানের বিরুদ্ধে সমস্ত নতুন হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। মার্কিন সামরিক ও প্রশাসনিক সূত্রের খবর অনুযায়ী, দেশটিতে ‘প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর’ (Patriot Interceptor) আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ ফুরিয়ে আসা এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত ব্যাপক উদ্বেগের কারণেই শুক্রবার ও শনিবার রাতে কোনো বিমান হামলা চালানো হয়নি।

হামলা স্থগিত রাখার নেপথ্য কারণ

মার্কিন সামরিক উপদেষ্টারা রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে স্পষ্টভাবে সতর্ক করেছিলেন যে, যেভাবে লাগাতার আক্রমণ চালানো হচ্ছে তাতে মার্কিন প্যাট্রিয়ট ডিফেন্স সিস্টেম ও ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের ভাণ্ডার বিপজ্জনকভাবে কমে গিয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সেনা ঘাঁটি এবং মিত্র দেশগুলোর সুরক্ষার জন্য এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলি অত্যন্ত জরুরি। এই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক বাহিনীকে আপাতত হামলা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।

ইরানের প্রতিক্রিয়া ও দাবি

আমেরিকা হামলা থামা মাত্রই তেহরানের পক্ষ থেকে একে নিজেদের বড় বিজয় হিসেবে দাবি করা হয়েছে। ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর পক্ষ থেকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ফের নতুন করে কোনো আক্রমণ চালায়, তবে ইরান আরও ভয়ঙ্কর ও শক্তিশালী ড্রোন দিয়ে তার উপযুক্ত জবাব দিতে প্রস্তুত।

ইরানি সামরিক বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সংঘাতে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে থাকা মার্কিন অবকাঠামো ও সামরিক ঘাঁটিগুলির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তাদের তরফ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে যে, এই ১৫ দিনের সংঘাতে আমেরিকার ১১টি যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার, ১৭টি ড্রোন, এমনকি একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান, একটি পি-৮ ও একটি সি-১৭ পরিবহন বিমান ধ্বংস করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্যাট্রিয়ট রাডার সিস্টেম, কমান্ড সেন্টার ও জ্বালানি ডিপোগুলিরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি তেহরানের।

হরমুজ প্রণালী ও নৌ-অবরোধের বর্তমান পরিস্থিতি

যুদ্ধের ময়দানে সাময়িক বিরতি এলেও ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ এখনও পুরোমাত্রায় বলবৎ রয়েছে। ২৫ জুলাই পর্যন্ত মার্কিন বাহিনী অবরোধ লঙ্ঘন করার চেষ্টাকারী ১২টি বাণিজ্যিক জাহাজকে ফিরিয়ে দিয়েছে এবং নিয়ম অমান্য করায় দুটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালী ও জলসীমা পুনরুদ্ধারের জন্য ওমানের মধ্যস্থতায় তেহরানে কূটনৈতিক আলোচনাও ইতিবাচক দিকে এগোচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে সামগ্রিক এই পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ এখনও কাটেনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *