“বাড়ি ছাড়ছে শত শত পরিবার!” গাজার ধ্বংসলীলার পর এবার পশ্চিম তীরে ইজরায়েলের সর্বাত্মক হামলার প্রস্তুতি

ইজরায়েল ও প্যালেস্তাইনের সংঘাত কি এবার এক ভয়ংকর রূপ নিতে চলেছে? গাজা উপত্যকার ধ্বংসলীলার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার অধিকৃত পশ্চিম তীরে (West Bank) এক বিশাল সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইজরায়েল। খোদ ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এই মর্মে এক চাঞ্চল্যকর ও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যের অশান্ত পরিস্থিতিকে আরও এক ধাপ বাড়িয়ে দিল।
নেতানিয়াহুর কঠোর নির্দেশ
আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, দেশের নিরাপত্তা বাহিনীকে পশ্চিম তীরের প্রতিটি গ্রামে প্রবেশ করে তল্লাশি চালানোর, অস্ত্র বাজেয়াপ্ত করার এবং সন্দেহভাজনদের গ্রেফতারে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইজরায়েলি প্রশাসনের দাবি, সন্ত্রাসবাদের শিকড় উপড়ে ফেলতে এই ব্যাপক সামরিক পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে গোটা অঞ্চলজুড়ে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও আঁটসাঁট করতে মরিয়া ইজরায়েলি সেনা।
ভয়াবহ মানবিক সংকট ও স্থানীয়দের যন্ত্রণা
অন্যদিকে, এই সামরিক অভিযানের জেরে পশ্চিম তীরের সাধারণ প্যালেস্তাইন নাগরিকদের জীবন এক বিভীষিকায় পরিণত হয়েছে। ‘ইয়ুথ এগেইনস্ট সেটেলমেন্টস’-এর প্রতিষ্ঠাতা ইসা আমরু আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেখানকার প্রকৃত চিত্র তুলে ধরেছেন।
তিনি জানান, অধিকৃত অঞ্চলে বসবাসকারী প্যালেস্তাইনরা প্রতিদিন চরম হিংসার শিকার হচ্ছেন। বিগত কয়েক মাসে হামলা যেভাবে বেড়েছে, তাতে সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকা দায় হয়ে পড়েছে। কেউ নিজের বাড়ি বা সম্পত্তি রক্ষার চেষ্টা করলেই তাঁর ওপর নেমে আসছে নির্যাতন কিংবা গ্রেফতারি।
ইসা আমরুর বিস্ফোরক দাবি, এই লাগাতার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ইতিমধ্যেই ২০টিরও বেশি প্যালেস্তাইন সম্প্রদায় তাদের পৈতৃক ভিটেমাটি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। শত শত পরিবার সবকিছু হারিয়ে উদ্বাস্তুতে পরিণত হয়েছে। এই পরিস্থিতিকে তিনি সরাসরি ‘জাতিগত নির্মূল’-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন।
বাড়ছে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ
একদিকে ইজরায়েলের সামরিক অভিযানের তোড়জোড় এবং অন্যদিকে স্থানীয়দের ওপর বসতিস্থাপনকারীদের হামলার অভিযোগ—সব মিলিয়ে পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত বারুদস্তূপের মতো। নেতানিয়াহুর এই নতুন ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক মহলেও নতুন করে উদ্বেগ দানা বাঁধতে শুরু করেছে।