তনিষ্ক বাগচীকে নিয়ে বিস্ফোরক পোস্ট ডিলিট করলেন আমান মালিক! পিছু হঠলেন, নাকি নেপথ্যে অন্য কোনো রহস্য?

সঙ্গীতশিল্পী ও সুরকার আমান মালিক স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, তনিষ্ক বাগচীর বিরুদ্ধে তাঁর করা বিস্ফোরক পোস্টগুলো মুছে ফেলাকে যেন মত বদল হিসেবে ভুল না করা হয়। মাইক্রোব্লগিং সাইট এক্সে (পূর্বে টুইটার) একটি নতুন বিবৃতি জারি করে আমান জানিয়েছেন যে, তিনি এখনও তাঁর করা সমস্ত অভিযোগে অনড় রয়েছেন। পোস্ট ডিলিট করার অর্থ লড়াই থেকে পিছু হঠা নয়, বরং এটি তাঁর প্রোফাইলের টাইমলাইন পরিষ্কার করার একটি উপায় মাত্র।
পোস্ট ডিলিট করার কারণ ব্যাখ্যা করে আমান লেখেন যে, এই সিদ্ধান্তটি এসেছে ‘সম্পূর্ণ স্পষ্টতা’ থেকে এবং তিনি ইতিমধ্যেই ‘প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ’ সেরে ফেলেছেন। তিনি জানান, টুইটগুলো মুছে ফেলা কেবল তাঁর প্রোফাইল থেকে ‘আবর্জনা দূর করার’ একটি মাধ্যম, এর মাধ্যমে তিনি যা লিখেছিলেন তা থেকে একচুলও সরে আসেননি।
১০ বছরের জমানো ক্ষোভ!
দীর্ঘ বছর ধরে মুখ বন্ধ রাখার পর কেন তিনি প্রকাশ্যে কথা বললেন, সে বিষয়ে আমান লেখেন, “প্রায় ১০ বছর ধরে নিজের ভেতরের রাগ চেপে রাখার জন্য আমাকে অনেক ধৈর্য ধরতে হয়েছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “আজ এক দশক পর আমাকে রুখে দাঁড়াতে হলো… কারণ কেউ সঠিক জিনিসের পক্ষে দাঁড়াতে চায় না।” এ সময় তিনি সঙ্গীত ইন্ডাস্ট্রির একাংশকে কটাক্ষ করে তাদের ‘আবর্জনা’ বলেও অভিহিত করেন।
‘বেটে, আমার সাথে লড়ার সময় নিজের আওকাত বা সীমার মধ্যে থেকো’
আগের পোস্টগুলো মুছে ফেলার পরেও তনিষ্ককে নিশানা করতে ছাড়েননি আমান। এক ‘খুবই খারাপ মানুষ’-এর আসল ‘সত্য’ তিনি ফাঁস করে দিয়েছেন দাবি করে তিনি বলেন, কর্মফল একদিন তার নিজস্ব পথ খুঁজে নেবেই।
তনিষ্ককে সরাসরি উদ্দেশ্য করে তিনি লেখেন, “বেটে, মুঝসে তো औकात (আওকাত) মে হি رہনা (রহনা),” এবং এটিকে একটি “আজীবন সতর্কতা” বলে অভিহিত করেন। এই হিন্দি মন্তব্যের অর্থ হলো— “আমার সাথে কারবার করার সময় নিজের সীমা বা অবস্থান ভুলে যেও না।”
পূর্বে আনা গুরুতর অভিযোগসমূহ:
ডিলিট করা পোস্টগুলোতে আমান তনিষ্ক বাগচীর বিরুদ্ধে গান চুরি করা এবং অন্য সুরকারদের কাজের কৃতিত্ব নিজের নামে চালিয়ে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ এনেছিলেন। এছাড়া, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশের নাম ভাঙিয়ে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি, আমানের আরও অভিযোগ ছিল যে, তনিষ্ক এক মহিলাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরবর্তীতে তাঁর সাথে মানসিক অত্যাচার করেছেন।
তবে এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে তনিষ্ক বাগচীর পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।