ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার পর বড় আশা পড়ুয়াদের! নতুন শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশীর কাছে কোন ৫ বড় দাবি তুললেন তাঁরা?

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা দেওয়ার পর এবার দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন নিয়ে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন আন্দোলনরত পড়ুয়ারা। নতুন শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া প্রহ্লাদ যোশীর হাত ধরে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের ত্রুটিগুলি দূর হবে এবং সুনির্দিষ্ট ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলেই আশা প্রকাশ করেছেন সিজেপি (CJP)-র বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ছাত্রছাত্রীরা।
গত প্রায় এক মাস ধরে চলা এই দীর্ঘ অবস্থান-বিক্ষোভের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল মূলত তিনটি প্রধান বিষয়—পরীক্ষা ব্যবস্থায় পূর্ণ স্বচ্ছতা আনা, স্বল্প খরচে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং সরকারি স্কুল ও প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ঘটানো। পড়ুয়াদের পরিষ্কার মত, শিক্ষামন্ত্রীর এই পরিবর্তন কেবল কাঙ্ক্ষিত সংস্কারের পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রথম ধাপ মাত্র।
পড়ুয়াদের গলায় নানা প্রত্যাশার সুর
রাজ যাদব (গাজিয়াবাদ): প্রায় এক মাস ধরে এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত রাজ যাদব জানিয়েছেন, “সরকারকে শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। আমি চাই নতুন মন্ত্রী শিক্ষা ব্যবস্থার দিকে বিশেষ নজর দিন। পুরো ব্যবস্থার ত্রুটিগুলি দূর করে তা যাতে কার্যকরভাবে পরিচালিত হয়, তা তাঁকে নিশ্চিত করতে হবে।”
সৃষ্টি (দিল্লি, লক্ষ্মী নগর): শিক্ষার অতিরিক্ত খরচের কারণে বহু পড়ুয়াকে যে চরম আর্থিক লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হয়, তা নিজের জীবন দিয়ে উপলব্ধি করেছেন সৃষ্টি। নিজের পড়াশোনার খরচ জোগাতে তাঁকে নিজেই কাজ করতে হয়। প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনার সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাবের কথা তুলে ধরে নতুন মন্ত্রীর কাছে তাঁর জোরালো দাবি—সব স্কুলে পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে, অল্প খরচে শিক্ষাদানের সুব্যবস্থা করতে হবে এবং সরকারি স্কুলের শিশুদের দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ জোর দিতে হবে।
বিক্রম চৌধুরি (রাজস্থান): সপ্তাহ দুয়েক ধরে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বিক্রমের দাবি, শিক্ষা সংস্কারের কাজ শুরু করতে হবে একদম বিদ্যালয় স্তর থেকে। পাশাপাশি সরকারি স্কুলের মানোন্নয়ন, শিক্ষা খাতে বাজেট বৃদ্ধি এবং ইউপিএসসি (UPSC), নিট (NEET) ও জেইই (JEE)-র মতো বড় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য প্রত্যন্ত অঞ্চলের ছেলেমেয়েদের বিনামূল্যে বা উন্নত সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। তাঁর স্পষ্ট কথা, দেশে শিক্ষা এখন অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে, যা সরকারের গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।
শৌর্য (একাদশ শ্রেণির ছাত্র, NEET পরীক্ষার্থী): কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের খবরে আশান্বিত এই তরুণ পড়ুয়া জানিয়েছে যে, সব সমস্যা এখনই মিটে গিয়েছে এমন ভাবার কোনো কারণ নেই। তবে সে বিশ্বাস করে, নতুন শিক্ষামন্ত্রী আর যাই হোক, ভবিষ্যতে আর কখনও প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অভিশপ্ত ঘটনা ঘটতে দেবেন না।
গৌরব তোমর (বাগপত, উত্তরপ্রদেশ): গত ২০ জুলাই থেকে এই বিক্ষোভে সামিল থাকা গৌরবের সাফ কথা, “শিক্ষা কোনো ব্যবসা নয়, এটি প্রতিটি শিশুর মৌলিক অধিকার এবং তা তাদের অবশ্যই দিতে হবে।” প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং ক্রমবর্ধমান শিক্ষা খরচ নিয়ন্ত্রণের দাবিও তুলেছেন তিনি।
শ্রাবণ কুমার (রাজস্থান): শিক্ষার্থীদের একই প্রবেশিকা পরীক্ষা বারবার দিতে বাধ্য করার জেরে যে মানসিক চাপ তৈরি হয়, তার প্রতিবাদ জানিয়ে শ্রাবণ বলেন, প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকায় পরীক্ষার কেন্দ্র নির্ধারণের মতো দীর্ঘদিনের লজিস্টিক সমস্যাগুলিরও দ্রুত স্থায়ী সমাধান করা দরকার।
সবমিলিয়ে, নতুন শিক্ষামন্ত্রীর ওপর দেশের ছাত্রসমাজের প্রত্যাশার পারদ এখন চড়ছে। এই দাবিগুলি নতুন মন্ত্রক কতটা দক্ষতার সঙ্গে রূপায়ণ করে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।