ধর্মতলায় নিট আন্দোলনে সাংবাদিক নিগ্রহকাণ্ডে আরও ৩ গ্রেপ্তার! পুলিশের জালে মোট ১৪, নাম জড়িয়েছে রাজনৈতিক যোগের

নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস এবং নানা অনিয়মের প্রতিবাদে গত শুক্রবার কলকাতার ধর্মতলায় বাম ছাত্রসংগঠন ও অন্যান্যদের বিক্ষোভ ঘিরে ব্যাপক অশান্তি ও তাণ্ডব চালায় একদল উপদ্রবকারী। আন্দোলনের আড়ালে সেদিন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের উপর নৃশংস হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় আগেই ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছিল কলকাতা পুলিশ। এবার রবিবার নতুন করে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হলো, যার ফলে এই মামলায় মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৪টিতে।
ধৃতদের পরিচয় ও রাজনৈতিক যোগের চর্চা
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া ১১ জনের তালিকায় ছিলেন জোড়াসাঁকোর ভবানী দত্ত লেনের বাসিন্দা ইরফান খুরশিদ (৩০), আমহার্ট স্ট্রিটের আরশাদ আলি (৫০), তিলজলার মহম্মদ মইনউদ্দিন (২৬), জোড়াসাঁকোর মহম্মদ আলমগির (৪৮), ইমরান আহমেদ (১৯), খালিদ রেজা (৪৭), বেনিয়াপুকুরের জমির আহমেদ (৪২), কড়েয়ার মহসিন খান (৩০) এবং দীপক ভৌমিক (৩৮)।
অন্যদিকে, রবিবার নতুন করে গ্রেপ্তার হওয়া তিন অভিযুক্ত হলেন—কড়ার শাহবাজ খান (চৌত্রিশ), রাজাবাগানের মহম্মদ হোসেন (২৯) এবং জহিরুদ্দিন মাল।
এদিকে, এই গ্রেপ্তারির পরেই ধৃতদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে। ধৃতদের একাংশের সঙ্গে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের যোগাযোগের তথ্য সামনে আসছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া বিভিন্ন ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, ধৃত আফরোজের সঙ্গে তৃণমূলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের ছবি বা ভিডিও রয়েছে। এছাড়া সবুজ রঙের পোশাক পরা ধৃত মহম্মদ আজাদের সঙ্গেও স্থানীয় রাজনৈতিক যোগের সূত্র মিলছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই আজাদ নাকি স্থানীয় ১৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রুবিনা নাজের স্বামীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। অন্যদিকে, ধৃতদের মধ্যে খালেদ রেজা নামে অপর এক ব্যক্তি কংগ্রেস সমর্থক বলেও জানা যাচ্ছে।
কঠোর আইনি পদক্ষেপ
গত শুক্রবারের এই ঘটনার পর বিধানসভায় কড়া বিবৃতি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন যে, এই বিশৃঙ্খলার নেপথ্যে থাকা প্রায় ৭০ জনকে সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যারা আদতে কোনো ছাত্র বা প্রকৃত আন্দোলনের অংশ ছিল না। ঘটনায় একাধিক ধারার পাশাপাশি কড়া ‘গুন্ডাদমন আইন’ (Goonda Act)-এর অধীনে মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং பொது সম্পত্তিতে ভাঙচুরের ঘটনায় যুক্ত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং তদন্ত প্রক্রিয়া আরও দ্রুত করা হচ্ছে।