টবে আমলকি ফলাচ্ছেন অথচ এই ছোট্ট ভুলটি করছেন না তো? আজই জেনে নিন ফল ধরার জাদুকরী উপায়

আমলকির পুষ্টিগুণ ও উপকারিতার কথা কমবেশি সকলেরই জানা। প্রতিদিন বাজার থেকে আমলকি কিনে আনার ঝক্কি এড়াতে অনেকেই এখন বাড়িতেই গাছ লাগাতে চান। অনেকেরই ধারণা, আমলকি গাছ লাগানোর জন্য বিরাট বড় বাগানের প্রয়োজন। তবে এই ধারণা একদমই ভুল। সঠিক জাতের চারা, উপযুক্ত মাপের টব এবং সামান্য যত্ন নিলে ছাদবাগান বা ব্যালকনির টবেই দিব্যি ফলানো সম্ভব আমলকি। আপনিও যদি গাছ লাগাতে চান, তবে জেনে নিন আমলকি চাষের কিছু দারুণ টিপস ও জাদুকরী কৌশল।

টব ও মাটি কেমন হওয়া চাই?

  • টবের মাপ: গাছ লাগানোর প্রাথমিক পর্যায়ে ৬ থেকে ৮ ইঞ্চির ছোট টব ব্যবহার করা ভালো। তবে গাছ বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেটিকে ১২ থেকে ১৬ ইঞ্চির বড় টবে প্রতিস্থাপন করতে হবে।

  • মাটি প্রস্তুত: আমলকি গাছের জন্য আদর্শ মাটি তৈরি করতে হলে ২ ভাগ সাধারণ মাটির সঙ্গে ১ ভাগ ভার্মিকম্পোস্ট বা কেঁচো সার এবং ১ ভাগ নদীর মোটা বালি ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হবে। টবের মাটিতে যেন জল জমে না থাকে, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।

কোন জাতের চারা বাছবেন ও জল দেওয়ার নিয়ম?

সবসময় বীজ থেকে গাছ না লাগিয়ে ভালো মানের গ্রাফটেড বা কলমের চারা লাগানোই শ্রেয়। কারণ বীজ থেকে হওয়া গাছে ফল ধরতে ১০ বছর পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে এবং ফল আসার নিশ্চয়তাও কম থাকে। কলমের চারা বসালে মাত্র ৩ থেকে ৫ বছরের মধ্যেই ফল পেতে শুরু করবেন। বাড়ির টবের জন্য NA-7, কৃষ্ণা (NA-5), NA-10 বলবন্ত বা ফ্রান্সিস-এর মতো জাতগুলি অত্যন্ত উপযোগী।

জলের ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে যে, গরমকালে ৪-৫ দিন অন্তর জলের প্রয়োজন হতে পারে। মাটি সম্পূর্ণ শুকিয়ে গেলে তবেই গাছে জল দিন এবং টবের ড্রেনেজ হোল দিয়ে অতিরিক্ত জল যেন সহজে বেরিয়ে যায়, সেদিকে লক্ষ্য রাখুন।

ফল না আসার প্রধান কারণ ও আমলকি চাষের ‘গোল্ডেন রুল’

অনেকেরই অভিযোগ থাকে যে, সমস্ত যত্ন নেওয়ার পরেও আমলকি গাছে ফল ধরছে না বা ফুল ঝরে যাচ্ছে। এর মূল সমাধান লুকিয়ে রয়েছে একটি নির্দিষ্ট নিয়মে— কখনও একটিমাত্র গাছ একা লাগাবেন না, সবসময় একসঙ্গে দুটি গাছ লাগান। এটাই আমলকি চাষের ‘গোল্ডেন রুল’ বা সোনালী নিয়ম।

  • ক্রস-পলিনেশন বা ইতর পরাগযোগ: আমলকি গাছে ভালো ফলন ও পরাগরেণুর জন্য ক্রস-পলিনেশন অত্যন্ত জরুরি। কাছাকাছি দুটি গাছ থাকলে বাতাস, মৌমাছি ও অন্যান্য কীটপতঙ্গের মাধ্যমে সহজেই এক গাছ থেকে অন্য গাছে পরাগরেণু পৌঁছাতে পারে।

  • ফল ঝরা বন্ধ হয়: এই পরাগযোগ প্রক্রিয়াটি ঠিকঠাকভাবে সম্পন্ন হলেই গাছের ফুল ঝরে যাওয়ার সমস্যা চিরতরে দূর হয় এবং প্রায় প্রতিটি ফুলই পুষ্ট ফলে পরিণত হয়।

আমলকি চাষের কিছু জরুরি টিপস:

১. বীজের বদলে সবসময় কলমের চারা ব্যবহার করুন।

২. প্রতিদিন অন্তত ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা গাছে সরাসরি রোদ লাগতে দিন।

৩. পরাগরেণুর সুবিধা পেতে পাশাপাশি ভিন্ন ভিন্ন জাতের দুটি চারা লাগান।

৪. গাছের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সময়মতো শুকনো পাতা ও ডাল ছেঁটে (Pruning) দিন।

৫. পোকার আক্রমণ থেকে গাছকে সুরক্ষিত রাখতে নিয়মিত জৈব কীটনাশক ব্যবহার করুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *