যুদ্ধবিরতি ভেঙে ১৩তম রাতে ভয়াবহ হামলা! ইরানের ৬ প্রদেশে মিসাইল বর্ষণ আমেরিকার

যুদ্ধবিরতি ভেঙে নতুন দফায় ইরানের ওপর সর্বাত্মক হামলা শুরু করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এর ধারাবাহিকতায় লাগাতার ত্রয়োদশ রাতে ইরানের মোট ছয়টি প্রদেশে भीषण বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। এই রক্তক্ষয়ী হামলায় এখন পর্যন্ত ছয়জন সাধারণ নাগরিক নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। নিহতদের সিংহভাগই ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খুজেস্তান প্রদেশের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

কুয়েতের মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির ভয়াবহ ড্রোন হামলা

আমেরিকার  জবাব দিয়েছে তেহরান। মার্কিন হামলার প্রতিবাদে কুয়েতের কৌশলগত আলি আল সালেম বিমানঘাঁটিতে অবস্থিত একটি বিশাল গোলাবারুদের গুদামে আত্মঘাতী ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। এর পাশাপাশি জর্ডান ও কাতারে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিও আইআরজিসির টার্গেট ছিল বলে জানা গেছে।

আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, তাদের ‘অপারেশন নাসর-২’-এর ২৭তম ধাপে এই প্রতিশোধমূলক আক্রমণ চালানো হয়। নিখুঁত ড্রোন হামলায় মার্কিন ঘাঁটির গোলাবারুদের গুদামটিতে একের পর এক শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে এবং তা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। এছাড়া সেনাসদস্যদের থাকার জন্য ব্যবহৃত ৬টি বড় আকারের হ্যাঙ্গার সম্পূর্ণ এবং আরও ৩টি হ্যাঙ্গার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইরানের কোন কোন প্রদেশে মার্কিন হানার প্রভাব?

ইরানি প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন প্রদেশে মার্কিন হামায়ার চিত্রটি নিম্নরূপ:

  • খুজেস্তান প্রদেশ: খুজেস্তানের নিরাপত্তা বিষয়ক উপ-গভর্নর ভালিউল্লাহ হায়াতি জানিয়েছেন, আহভাজ শহরের আশপাশে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে চারজন নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন। গত দুই সপ্তাহ ধরে চলা মার্কিন হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত শহরগুলির মধ্যে আহভাজ অন্যতম। এছাড়া আন্দিমেশক ও ওমিদিয়েহ শহরেও হামলা হয়েছে, তবে সেখানে কোনো হতাহতের খবর নেই। এর আগে বৃহস্পতিবার শালামচেহ সীমান্ত টার্মিনালে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আরও দুজন নিহত ও ১১ জন আহত হন।

  • হরমোজগান প্রদেশ: শুক্রবার সকালে বন্দর আব্বাসের তাপ্পেহ আল্লাহ আকবার এলাকায় মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রে অন্তত দু’জন আহত হয়েছেন। হামলায় স্থানীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্ল্যাকআউট দেখা দিয়েছে।

  • ইসফাহান ও অন্যান্য প্রদেশ: শুক্রবার সকালেই ইসফাহান প্রদেশের নায়েন শহরে নতুন করে মার্কিন হানার খবর মিলেছে, যদিও সেখানে কোনো হতাহত হয়নি। পাশাপাশি, লোরেস্তানের খোররমাবাদ, মারকাজির খান্দাব এবং গিলান প্রদেশেও আইআরজিসির বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে মার্কিন সেনা। গিলানে কিছু সামরিক সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

বর্তমানে যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকাগুলিতে উদ্ধারকাজ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন স্থানীয় বিশেষজ্ঞরা। মধ্যপ্রাচ্যের এই নতুন সংঘাত বিশ্ব রাজনীতি ও জ্বালানি বাজারের ওপর গভীর সংকটের মেঘ ঘনাতে শুরু করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *