বিজ্ঞানের সমস্ত হিসাব ওলটপালট! মহাশূন্যে মিলল বৃহস্পতির আকারের কটন ক্যান্ডির মতো হালকা দুই ভুতুড়ে গ্রহ

মহাশূন্য মানেই নিত্যনতুন বিস্ময়। আর সেই অবাক হওয়ার পালা যে কখনও শেষ হওয়ার নয়, তার আরও একবার প্রমাণ মিলল নাসার সৌজন্যে। নাসার ‘টেস’ (Transiting Exoplanet Survey Satellite – TESS) স্যাটেলাইট মহাশূন্যে এমন এক জোড়া গ্রহের সন্ধান পেয়েছে, যা দেখে রীতিমতো ধাঁধায় পড়ে গেছেন বিজ্ঞানীরা। পরিস্থিতি এমন যে, এই গ্রহ দুটির অস্তিত্ব কীভাবে সম্ভব, সেটাই কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছেন না তাঁরা!
কটন ক্যান্ডির মতো হালকা দানবাকৃতি গ্রহ
পৃথিবী থেকে ১ হাজার ১১৩ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত একটি নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করছে এই জোড়া গ্রহ। আকার ও আয়তনের দিক থেকে গ্রহ দুটি আক্ষরিক অর্থেই দানবাকৃতি এবং বৃহস্পতির সমতুল্য। স্বাভাবিকভাবেই এই মাপের গ্রহের ভর অনেক বেশি হওয়ার কথা।
কিন্তু এখানেই বিজ্ঞানীদের চমকে দিয়েছে গ্রহ দুটি। ছোটবেলায় মেলায় খাওয়া শিশুদের প্রিয় ‘বুড়ির চুল’ বা কটন ক্যান্ডি যেমন ভেতরটা ফাঁপা ও অত্যন্ত হালকা হয়, এই গ্রহ দুটির ঘনত্বও তেমনই! বিজ্ঞানীদের অবাক করে দিয়ে দেখা গেছে, বৃহস্পতির যে ভর, এই গ্রহ দুটির ভর তার মাত্র ৩ শতাংশ! অর্থাৎ আকৃতিতে দানব হলেও ওজনের বিচারে এরা অত্যন্ত হালকা।
নির্দিষ্ট কক্ষপথে সচ্ছন্দ্য চলাচল
আশ্চর্যজনক হলেও সত্যি, এত কম ঘনত্ব ও হালকা হওয়া সত্ত্বেও এই গ্রহ দুটির গতিবিধিতে কোনো সমস্যা নেই। তারা তাদের নক্ষত্রকে যথাক্রমে ১৩৯ দিন এবং ২৩২ দিনে নিখুঁতভাবে প্রদক্ষিণ করে চলেছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, এর আগে মহাশূন্যে এত কম ঘনত্বের ‘সুপার পাফ’ গ্রহ খুব একটা দেখা যায়নি। তার ওপর একই নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে এমন জোড়া হালকা গ্রহ একসঙ্গে ঘোরার ঘটনা এই প্রথম দেখলেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।
কেন চিন্তায় ফেলছে এই আবিষ্কার?
পৃথিবীর বাইরে বর্তমানে হাজার হাজার এক্সোপ্ল্যানেট বা ভিনগ্রহের সন্ধান মিলেছে। তাদের সম্পর্কে নানা তথ্যও সংগ্রহ করেছেন গবেষকরা। কিন্তু এই দুটি সুপার পাফ গ্রহ বিজ্ঞানীদের পুরোনো সমস্ত সমীকরণ ও ধারণাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। গ্রহগুলির এত কম ভর এবং বিশাল আকারের এই অদ্ভুত সামঞ্জস্য কীভাবে তৈরি হলো, এখন সেটাই খুঁজে বের করার চেষ্টা চালাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।