তরুণ প্রজন্মকে ‘আরশোলা’ কটূক্তি! দিল্লির রাজপথ কাঁপানো প্রতিবাদী দল ‘CJP’-র আসল ইতিহাস জানেন কি?

রাজনৈতিক দলের নাম আবার ‘ককরোচ’ বা ‘আরশোলা’ হয় নাকি! শুনতে প্রথমে অবাক লাগলেও বর্তমান দিল্লির রাজপথ এই নামেই একটি নতুন ও आक्रामक প্রতিবাদী দল— ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা CJP-র আন্দোলনে কাঁপছে। অনেকে এর নেপথ্যে অন্য কোনো বড় যোগসূত্র বা চক্রান্ত খোঁজার চেষ্টা করলেও, এই দলের জন্ম এবং এর তীব্র আন্দোলনের নেপথ্যে রয়েছে সম্পূর্ণ এক বিস্ফোরক প্রেক্ষাপট।
কীভাবে এল এই ‘আরশোলার দল’?
কিছুদিন আগে সুপ্রিম কোর্টের একটি মামলার শুনানির সময় দেশের সর্বোচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত দেশের নতুন প্রজন্মের যুবসমাজ ও চাকরিপ্রার্থীদের একপ্রকার কটাক্ষ করে তাদের সঙ্গে ‘আরশোলা’র তুলনা করেছিলেন। তিনি মন্তব্য করেছিলেন, “কিছু তরুণ আছে, যারা আরশোলার মতো। তারা কোনো পেশায় জায়গা করে নিতে পারে না, তারপর তাদের মধ্যে কেউ মিডিয়ায় যায়, কেউ RTI কর্মী হয়।” প্রধান বিচারপতির এই মন্তব্যের পরই সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে দেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে তীব্র প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। ক্ষুব্ধ চাকরিপ্রার্থী ও তরুণ-তরুণীরা অপমান গায়ে মেখে না নিয়ে বরং নিজেদের গর্বের সঙ্গে ‘আরশোলা’ হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন এবং ঐক্যবদ্ধ হন। সেখান থেকেই জন্ম নেয় প্রতীকী প্রতিবাদী রাজনৈতিক দল— ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। বর্তমানে এই তরুণদের দমনে দিল্লি পুলিশ কারেন্ট লাগানো ব্যারিকেড, লাঠিচার্জ এবং জলকামান ও টিয়ার গ্যাসের মতো কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হচ্ছে।
কী দাবি এই ‘আরশোলাদের’?
এই সংগঠনের মূল লড়াই দেশের বেকারত্ব দূরীকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো দুর্নীতিকে চিরতরে উপড়ে ফেলা। তাদের প্রধান ও সুনির্দিষ্ট দাবিগুলি হল:
-
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে সরকারকে অবিলম্বে কঠোরতম আইন প্রণয়ন করতে হবে।
-
দেশের প্রতিটি সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে।
-
NEET প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ডের নৈতিক দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে।
এই আন্দোলনে ইতিমধ্যেই দেশের বিশিষ্ট পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক সরাসরি সমর্থন জানিয়ে আমরণ অনশন শুরু করেছেন। পেপার ফাঁসের জেরে যাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত ও অন্ধকার হয়ে পড়েছে, সেই দেশের ক্ষুব্ধ তরুণ প্রজন্ম আজ একজোট হয়ে বুঝিয়ে দিয়েছে— আরশোলা হুট করে মরে না, আর তারা একসঙ্গে জোট বাঁধলে আস্ত একটা রাজপ্রাসাদও গুঁড়িয়ে দিতে পারে।