‘সাহস থাকলে ডায়মন্ড হারবারে দাঁড়ান, আগের থেকে বেশি ভোটে হারাব!’ অভিষেককে খোলা চ্যালেঞ্জ শুভেন্দুর

একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে বর্তমান সরকারকে উদ্দেশ্য করে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ঠিক ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বুধবার বিধানসভার বাজেট অধিবেশনে তার অত্যন্ত কড়া ও আক্রমণাত্মক ভাষায় জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ডায়মন্ড হারবারের রাজনীতি থেকে শুরু করে ২০৩১ সালের নির্বাচন— সমস্ত ইস্যুতেই অভিষেককে একহাত নেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের মূল আক্রমণ ও হুঙ্কার:

  • ভবিষ্যতের গর্ভে কী আছে? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করে বা ‘ওই ছোঁড়া’ ও ‘প্রতিষ্ঠিত চোর’ বলে সম্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ওকে আমি বলে গেলাম, ভিতরে থাকবেন কি বাইরে থাকবেন ভবিষ্যৎই বলবে। অত বড় বড় কথা বলছেন, আগে দেখুন ৩১-এ তিনি কোথায় থাকেন!”

  • ডায়মন্ড হারবার নিয়ে সরাসরি চ্যালেঞ্জ: একুশের মঞ্চে অভিষেক ২০৩১ সালের হিসাব নেওয়ার কথা বলেছিলেন। তার জবাবে শুভেন্দু বলেন, “সাহস থাকলে ডায়মন্ড হারবারে দাঁড়ান। অত বড় বড় কথা! আমি একটা গ্রাম পঞ্চায়েতে মিটিং করলেও এর চারগুণ লোক হয়। আগে যত ভোটে জিতেছেন, তার থেকে বেশি ভোটে আপনাকে হারাব।”

  • ভাইপো-পন্থী তৃণমূল হঠানোর ডাক: রাজ্য থেকে এই ‘ভাইপো-পন্থী’ তৃণমূলের নাম-নিশানা পুরোপুরি মুছে দেওয়ার হুঙ্কার দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানান যে, সভা করার ক্ষেত্রে তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার দেওয়া হলেও প্রশাসনকে চ্যালেঞ্জ জানালে তার যোগ্য জবাব দেওয়া হবে।

  • সিপিএম ও তৃণমূলের দুর্নীতি নিয়ে তোপ: বাম আমলের সঙ্গে তৃণমূলের তুলনা টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সিপিএম ৩৪ বছর ধরে রাজনৈতিক দুর্নীতি করেছে, আর তৃণমূল চালু করেছে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি।” দুর্নীতিগ্রস্ত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না এবং প্রয়োজনে তাঁদের সম্পত্তি ক্রোক করে আবার জেলে পাঠানো হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

  • একুশের সভার অনুমতি প্রসঙ্গ: ২১ জুলাইয়ের সভার অনুমতি প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, পুলিশ কমিশনার যখন তিনটি পক্ষের একই দিনে শহিদ দিবস করার আবেদন নিয়ে এসেছিলেন, তখন তিনি কাউকে আটকাতে বারণ করেছিলেন। তাঁর সাফ কথা, প্রশাসন চাইলে পৃথিবীর কোনও শক্তি সেদিন ওই সভা করতে দিতে পারত না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *