হাসপাতালে গিয়ে সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে মধ্যরাতের দীর্ঘ বৈঠক! বড় কোনো সমঝোতার পথে কেন্দ্র?

দেশজুড়ে চলা ছাত্র আন্দোলন এবং রাজধানীর উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে অচলাবস্থা কাটাতে ফের একবার উচ্চপর্যায়ের আলোচনার উদ্যোগ নিল কেন্দ্র সরকার। জলবায়ু কর্মী সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে মধ্যরাতের দীর্ঘ ম্যারাথন বৈঠকের পর, আজ বুধবার ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র নেতৃত্বাধীন ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আরও একপ্রস্থ গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসতে চলেছে কেন্দ্র। সরকারি সূত্রে আশা প্রকাশ করা হয়েছে যে, এই আলোচনার মাধ্যমেই দীর্ঘদিনের এই বিরোধের একটি ইতিবাচক ও শান্তিপূর্ণ সমাধান বেরিয়ে আসবে।
সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে মধ্যরাতের বৈঠক ও সরকারের সায়
আমরণ অনশনের জেরে বর্তমানে মেদান্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বিশিষ্ট পরিবেশকর্মী ও আন্দোলনকারী সোনম ওয়াংচুক। গত মঙ্গলবার গভীর রাতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ড. জিতেন্দ্র সিং এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা আচমকাই হাসপাতালে গিয়ে সোনমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
সূত্রের খবর, সেই বৈঠকে প্রধান দাবি হিসেবে সংসদে এই ছাত্র আন্দোলন ও সংশ্লিষ্ট ইস্যুগুলি নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হয়। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সংসদীয় আলোচনার এই দীর্ঘদিনের দাবিতে কেন্দ্র অবশেষে সম্মতি প্রকাশ করেছে, যা চলমান রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকট দূর করতে এক বড় ভূমিকা নিতে পারে।
রাজনৈতিক তৎপরতা ও বিরোধী নেতাদের আটকের ঘটনা
এর আগে গত সোমবারই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা সিজেপি (CJP)-র একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে প্রাথমিক বৈঠক করেছিলেন। সরকারের পক্ষ থেকে বারবারই দাবি করা হচ্ছে যে আলোচনার দরজা দেশের ছাত্রসমাজ ও প্রতিনিধিদের জন্য সবসময় খোলা রয়েছে।
তবে এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার দিনভর রাজধানীতে চরম রাজনৈতিক উত্তেজনা বজায় ছিল। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রার মতো শীর্ষস্থানীয় বিরোধী নেতারা প্রতিবাদী মিছিলে অংশ নিয়ে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে এগোনোর চেষ্টা করলে দিল্লি পুলিশ তাঁদের আটক করে এবং পরে ছেড়ে দেয়। অন্যদিকে, সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনেও এই ছাত্র আন্দোলন ও নিট (NEET) সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বারবার অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আজকের উচ্চপর্যায়ী বৈঠকের পর পরিস্থিতির কতটা উন্নতি হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।