ফুড ডেলিভারি অ্যাপে শয়ে শয়ে খাবারের প্যাকেট! যন্তর মন্তরে অভূতপূর্ব কায়দায় আন্দোলন, মোদী সরকারের ওপর চাপ চরম

নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ড এবং তার জেরে একাধিক পরীক্ষার্থীর স্বপ্নভঙ্গ ও চরম সিদ্ধান্তের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিল্লির যন্তর মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র আন্দোলন এখন এক বিশাল রূপ ধারণ করেছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে ইতিমধ্যেই বিরোধী জোটের একাধিক হেভিওয়েট নেতা এবং বিভিন্ন বাম ছাত্র সংগঠন সংহতি জানিয়েছে। দেশের নানা প্রান্ত থেকে ছাত্র-যুবরা তো বটেই, এমনকি পাঞ্জাব থেকে কৃষকরাও দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। সেলিব্রিটি, কনটেন্ট ক্রিয়েটর, প্রাক্তন সেনা আধিকারিক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ—সকলের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এই আন্দোলন এখন এক ঐতিহাসিক মাত্রা নিয়েছে।
খাবার পাঠাতে অভিনব পন্থা, আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ল বিদেশেও
পুলিশ যন্তর মন্তরে যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় আন্দোলনকারীরা যখন জল ও খাবারের সংকটে পড়েন, তখন সাধারণ মানুষ এক অভিনব প্রতিবাদ ও সমর্থনের পথ বেছে নেন। ফুড ডেলিভারি অ্যাপের মাধ্যমে যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারীদের সঠিক ঠিকানা দিয়ে শয়ে শয়ে খাবারের প্যাকেট অর্ডার করা শুরু হয়। ভলান্টিয়ার ও ডেলিভারি পার্টনারদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন রাজ্য থেকে ইতিমধ্যেই ৫০০-র বেশি খাবারের প্যাকেট এসে পৌঁছেছে। আন্দোলনকারীদের জন্য বার্গার, স্যান্ডউইচ থেকে শুরু করে জলের বোতল পর্যন্ত পাঠিয়ে এই অদ্ভুত উপায়ে সংহতি জানাচ্ছেন সচেতন নাগরিকরা।
শুধু দেশেই নয়, দিল্লির এই আন্দোলনের আঁচ এখন সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশেও পৌঁছে গেছে। নিউইয়র্ক, লন্ডন এবং ডাবলিনের মতো আন্তর্জাতিক শহরেও প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুকের সমর্থনে এই শহরগুলিতেও মানুষ রাস্তায় নেমেছেন।
রাহুল গান্ধীর সমর্থন ও রাজনৈতিক চাপ
আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের বেধড়ক লাঠিচার্জের তীব্র নিন্দা করে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সরাসরি ছাত্রছাত্রীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, “ছাত্রদের ন্যায্য অধিকারের লড়াইয়ে আমাদের সমর্থন জারি থাকবে।” এদিকে, হাসপাতালেও নিজের আমরণ অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন সোনম ওয়াংচুক। মেট্রো স্টেশনের গেট বন্ধ করেও আন্দোলন দমানো যাচ্ছে না। একটাই দাবি—শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা। সবমিলিয়ে, যন্তর মন্তরের এই সর্বাত্মক আন্দোলন মোদী সরকারের ওপর চরম রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছে।