দীর্ঘ ২২ মিনিটের ভাষণে বাদ পড়েছিলেন মহুয়া-দোলা-সাগরিকা! নেত্রীর ইশারা উপেক্ষা করতেই শুরু হয় সংঘাত

বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে মঙ্গলবার কালীঘাটপন্থীদের একুশে জুলাইয়ের কর্মসূচি ঘিরে বড়সড় ছন্দপতন। খোদ দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনকষাকষি এবং বচসাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক মহল। নিজের দীর্ঘ বক্তৃতা শেষ করার পরেই দলনেত্রীর বক্তব্য না শুনেই যেভাবে কল্যাণ মঞ্চ ছেড়ে সটান বাড়ির পথে পা বাড়িয়েছিলেন, তা নিয়ে এখন চলছে জোর চর্চা।

মঞ্চে ঠিক কী ঘটেছিল?

দলীয় সূত্রে খবর, এদিন মেগা মঞ্চে বক্তার তালিকা দীর্ঘ থাকায় শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যে, প্রত্যেককেই যেন তাঁদের বক্তব্য সংক্ষেপে শেষ করা হয়। কিন্তু শ্রীরামপুরের সাংসদ সেই নির্দেশ উপেক্ষা করে টানা প্রায় সাড়ে বাইশ মিনিট ধরে ভাষণ দেন।

  • বক্তা বাদ পড়ার জল্পনা: কল্যাণের এই দীর্ঘ ভাষণের জেরে নির্ধারিত তালিকা থেকে বাদ পড়তে হয় লোকসভার সাংসদ মহুয়া মৈত্র, কীর্তি আজাদ, রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেন, সাগরিকা ঘোষ এবং রাজীব কুমারদের।

  • মমতার ধমক ও বাদানুবাদ: প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, কল্যাণের বক্তৃতা চলাকালীনই মঞ্চে আসেন মমতা। তিনি ইশারায় ভাষণ সংক্ষিপ্ত করতে বললেও কল্যাণ তা শোনেননি। এরপর ভাষণ শেষ হলে মমতা তাঁকে রীতিমতো ধমকের সুরে সতর্ক করেন এবং তখনই দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি বা বচসা শুরু হয়। এর পরেই ক্ষুব্ধ কল্যাণ মঞ্চ ছেড়ে সোজা নিজের কালীঘাটের বাসভবনে চলে যান।

অসুস্থতার সাফাই ও নেত্রীর সঙ্গে দূরত্বের জল্পনা

নেত্রীর সঙ্গে এই বাকবিতণ্ডার জল্পনা অবশ্য সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, শারীরিক অসুস্থতার কারণেই তিনি দ্রুত মঞ্চ ছেড়েছেন। সোমবার সারা রাত জাগার ফলে তাঁর জ্বর এসেছিল। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “বচসা হলে কি মঞ্চের সামনে গিয়ে ও-ভাবে বক্তৃতা করতাম?”

তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর তৃণমূলের অন্দরে যখন ভাঙন ও ফাটল ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে, ঠিক সেই সময় একুশের মঞ্চে খোদ মমতার সঙ্গে কল্যাণের এই প্রকাশ্য সংঘাত দলের অন্দরের সমীকরণ নিয়ে নতুন করে বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করে দিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *