ব্যবসা করার জন্য মাত্র ৫% সুদে ঋণ দিচ্ছে মোদী সরকার, দিতে হবেনা গ্যারান্টিও

ব্যবসায়িক উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে এবং দেশের ঐতিহ্যবাহী কারিগর ও শিল্পীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে কেন্দ্র সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ‘প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা যোজনা’ (PM Vishwakarma Yojana)। এই প্রকল্পের মাধ্যমে সরকার যেমন জামানত-মুক্ত ঋণের ব্যবস্থা করেছে, তেমনই সুদের ওপর আকর্ষণীয় ভর্তুকিও প্রদান করছে।
যোজনার মূল বৈশিষ্ট্য ও ঋণের বিবরণ
এই প্রকল্পের অধীনে সুবিধাভোগীরা কোনো রকম গ্যারান্টি বা জামানত ছাড়াই সহজ শর্তে ঋণ পেয়ে থাকেন:
-
লোনের পরিমাণ: এই স্কিমে মোট ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জামানত-মুক্ত ঋণ পাওয়া যায়।
-
কিস্তির বিবরণ: * প্রথম কিস্তি: ১ লক্ষ টাকা, যা পরিশোধের জন্য ১৮ মাস সময়সীমা পাওয়া যায়।
-
দ্বিতীয় কিস্তি: ২ লক্ষ টাকা, যা ৩০ মাস সময়সীমা সহ প্রদান করা হয়। তবে প্রথম কিস্তির লোন সফলভাবে পরিশোধ করার পরই দ্বিতীয় কিস্তির সুবিধা মিলবে। এর জন্য একটি স্ট্যান্ডার্ড লোন অ্যাকাউন্ট থাকা এবং সমস্ত লেনদেন ডিজিটাল পদ্ধতিতে হওয়া বাধ্যতামূলক।
-
-
নামমাত্র সুদের হার: এই ঋণের ক্ষেত্রে সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে মাত্র ৫ শতাংশ হারে সুদ নেওয়া হয়, যেখানে বাকি ৮ শতাংশ পর্যন্ত সুদের হার বহন করে ভারত সরকার।
কারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য?
প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা যোজনার সুবিধা পেতে হলে আবেদনকারীকে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে:
-
সুবিধাভোগীকে অবশ্যই নিজের হাতে ও বিভিন্ন সরঞ্জামের সাহায্যে কাজ করতে সক্ষম হতে হবে।
-
তাঁকে সরকার নির্ধারিত ১৮টি ঐতিহ্যবাহী পেশার যেকোনো একটির সঙ্গে যুক্ত থাকতে হবে এবং অসংগঠিত ক্ষেত্র বা স্ব-নিযুক্ত (Self-employed) ব্যক্তি হতে হবে।
-
রেজিস্ট্রেশনের তারিখে আবেদনকারীর ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর হতে হবে।
-
বিগত ৫ বছরের মধ্যে স্ব-কর্মসংস্থান বা ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকারের অন্য কোনো ঋণভিত্তিক প্রকল্পের সুবিধা নিয়ে থাকলে তাঁরা এই প্রকল্পের যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না।
-
এই যোজনার সুবিধা একটি পরিবারের মাত্র একজন সদস্যের জন্য সীমাবদ্ধ (পরিবার বলতে স্বামী, স্ত্রী এবং অবিবাহিত সন্তান)।
-
আবেদনকারী বা তাঁর পরিবারের কোনো সদস্য সরকারি চাকরিতে কর্মরত থাকতে পারবেন না।
(নথিভুক্তকরণের ক্ষেত্রে কমন সার্ভিস সেন্টারের (CSC) মাধ্যমে বায়োমেট্রিক্স এবং আধার যাচাইকরণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।)
প্রশিক্ষণের সময় আর্থিক সাহায্য ও অন্যান্য সুবিধা
এই প্রকল্পের একটি অন্যতম আকর্ষণীয় দিক হলো আধুনিক প্রযুক্তির প্রশিক্ষণ এবং আর্থিক সহায়তা:
-
দৈনিক উপবৃত্তি: প্রশিক্ষণের দিনগুলিতে কারিগরদের আধুনিক প্রযুক্তির কাজ শেখানো হয় এবং এই প্রশিক্ষণ চলাকালীন দৈনিক ৫০০ টাকা করে উপবৃত্তি দেওয়া হয়।
-
টুলকিট সহায়তা: উন্নত মানের আধুনিক সরঞ্জাম কেনার জন্য ই-ভাউচারের মাধ্যমে এককালীন ১৫,০০০ টাকার টুলকিট প্রদান করা হয়।
কোন ১৮টি পেশার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা আবেদন করতে পারবেন?
শুধুমাত্র নির্দিষ্ট ঐতিহ্যবাহী পেশার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাই এই যোজনার অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন। পেশাগুলির তালিকা নিম্নরূপ:
-
মুচি বা জুতো প্রস্তুতকারক
-
নাপিত
-
অস্ত্র-নির্মাতা
-
পাথর ভাঙেন যিনি
-
ঝুড়ি, মাদুর ও ঝাড়ু প্রস্তুতকারক
-
পুতুল এবং খেলনা প্রস্তুতকারক
-
নৌকা নির্মাতারা
-
কামারের কাজ করেন যারা
-
মাছ ধরার জাল প্রস্তুতকারক
-
হাতুড়ি এবং টুলকিট প্রস্তুতকারক
-
মালাকার
-
রাজমিস্ত্রি
-
পাথর খোদাইকারীরা
-
ভাস্কর
-
ধোপা
-
দর্জি
-
তালাচাবি প্রস্তুতকারক
-
(তালিকভুক্ত অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী কারিগর পেশা)