সোনার বাংলা গড়ার অঙ্গীকার: অমিত শাহের উপস্থিতিতে বাংলায় বিশ্বের বৃহত্তম দই উৎপাদন কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর

পশ্চিমবঙ্গ থেকে দীর্ঘদিনের ‘রাজনৈতিক অন্ধকার’ কাটিয়ে ফের ‘সোনার বাংলা’ গড়ার ডাক দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শনিবার এক অনুষ্ঠানে তিনি দাবি করেন, দীর্ঘ তিন দশকের বাম শাসন এবং পরবর্তী ১৫ বছরের তৃণমূল জমানার পর শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বর্তমান বিজেপি সরকারের হাত ধরে বাংলায় উন্নয়নের এক নতুন অধ্যায় সূচিত হয়েছে।

উন্নয়ন ও পরিবর্তনের বার্তা

নিউ টাউন-এর বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টার থেকে ডিজিটাল মাধ্যমে হাওড়ায় ‘অমূল বেঙ্গল ডেইরি প্রজেক্ট’-এর অধীনে বিশ্বের বৃহত্তম দই উৎপাদনকারী কারখানার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন অমিত শাহ। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

শাহের কথায়, “শিক্ষা ও শিল্পে একসময় পশ্চিমবঙ্গ পুরো দেশের পথপ্রদর্শক ছিল। আজ দীর্ঘ সংগ্রামের পর সেই হৃত গৌরব পুনরুদ্ধারের সময় এসেছে।” তিনি আরও জানান, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার যৌথভাবে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করা, অনুপ্রবেশ রোধ এবং নারীর নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

বাংলায় ডেইরি বিপ্লব: এক নজরে প্রকল্প

রাজ্যের ডেইরি সেক্টরে নতুন দিগন্ত খুলে দিতে এই প্রকল্পটি মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রকল্পটির মূল বৈশিষ্ট্যগুলি হলো:

  • বিনিয়োগ: প্রায় ৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে নির্মিত হচ্ছে এই অত্যাধুনিক প্ল্যান্ট।

  • উৎপাদন ক্ষমতা: প্রতিদিন প্রায় ৩০ লক্ষ লিটার দুধ প্রক্রিয়াকরণের সক্ষমতা থাকবে এই কারখানায়।

  • বিশ্ব রেকর্ড: এটিই হতে চলেছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় দই উৎপাদন কেন্দ্র, যেখানে প্রতিদিন প্রায় ১,০০০ টন দই ও অন্যান্য দুগ্ধজাত পণ্য তৈরি হবে।

  • কর্মসংস্থান ও আয়: এই প্রকল্পের ফলে রাজ্যের ১.২৫ লক্ষের বেশি ডেইরি কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন, যার মধ্যে ৩০,০০০-এর বেশি রয়েছেন মহিলা। এটি গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

অমিত শাহ তাঁর সফরে রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বিশদ আলোচনা করেছেন। তিনি দাবি করেন, গত ১০ বছরের সংঘর্ষের পর বিজেপি সরকার রাজ্যে সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বদ্ধপরিকর। উন্নয়নের পাশাপাশি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরানোই বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।

পশ্চিমবঙ্গে ডেইরি শিল্পের এই বিশাল উদ্যোগ এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আপনার মতামত কী? নিচে কমেন্ট করে জানান।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *