ইউনিটেকের পরিণতি হতে পারে আপনারও! পার্সভনাথ এক্সোটিকার বিল্ডারকে ১ সপ্তাহের আল্টিমেটাম সুপ্রিম কোর্টের

গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৩-তে অবস্থিত বিতর্কিত আবাসন প্রকল্প ‘পার্সভনাথ এক্সোটিকা’ (Parsvnath Exotica) নিয়ে ধৈর্যের বাঁধ ভেঙেছে সুপ্রিম কোর্টের। হরিয়ানা রিয়েল এস্টেট রেগুলেটরি অথরিটি (HRERA)-এর নির্দেশ অমান্য করা এবং ফ্ল্যাট ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে রিয়েল এস্টেট সংস্থাটির তীব্র সমালোচনা করেছেন প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এক সপ্তাহের মধ্যে বকেয়া টাকা জমা না দিলে সংস্থার কর্ণধারদের জেল খাটতে হবে।
কী ঘটেছিল শুনানিতে?
শুনানি চলাকালীন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, “এই বিল্ডাররা পুরো দেশকে ধোঁকা দিচ্ছে এবং পুরো সিস্টেমকে উপহাসের পাত্র বানিয়ে তুলেছে।” ইউনিটেক (Unitech) গোষ্ঠীর পরিণতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে আদালত সতর্ক করে বলে, ওই সংস্থার মতো একই পরিণতি হতে পারে পার্সভনাথ এক্সোটিকার।
আদালতের কড়া নির্দেশ:
-
চূড়ান্ত সুযোগ: জামিন অযোগ্য পরোয়ানা কার্যকর করার আগে বিল্ডারদের শেষ সুযোগ হিসেবে ১২% বার্ষিক সুদসহ সম্পূর্ণ অর্থ সুপ্রিম কোর্ট রেজিস্ট্রিতে জমা দিতে বলা হয়েছে।
-
সময়সীমা: আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এই অর্থ জমা করতে হবে।
-
আইনি কড়াকড়ি: আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, তারা সংবিধানের ১৪২ ধারা অনুযায়ী কাজ করছে। আইবিসি (IBC) বা দেউলিয়া আইনের কোনো অজুহাত এখানে খাটবে না।
বিল্ডারের পরিকল্পনায় আমল নয় আদালতের
শুনানি চলাকালীন বিল্ডারের আইনজীবী আদালতে একটি ‘পরিকল্পনা’ বা প্ল্যানের কথা জানান। জবাবে প্রধান বিচারপতি ধমকের সুরে বলেন, “আমাদের কাছে কোনো পরিকল্পনার প্রয়োজন নেই। আগে টাকা জমা দিন, তারপর অন্য কথা। আমরা প্রতারক ব্যবসায়ীদের ভালোভাবেই চিনি। আমাদের নির্দেশে যেন কোনো ভুল বোঝাবুঝি না হয়—পরবর্তী ধাপই হলো জেল।”
ফ্ল্যাট ক্রেতাদের আইনজীবী পিয়া হিঙ্গোরানি জানিয়েছেন, তারা আশা করেছিলেন বিল্ডাররা এদিনই ডিমান্ড ড্রাফট নিয়ে আদালতে উপস্থিত হবেন। কিন্তু তা না হওয়ায় আদালত অসন্তোষ প্রকাশ করে আগামী সোমবার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে।